কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে কটিয়াদীতে তোলপাড় !
মিজানুর রহমান – স্টাফ রিপোর্টার, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফৌজিয়া খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনগণ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিরা একযোগে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ ও অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা অনুপস্থিত। বিশেষ করে সামাজিক গোরস্থান সংস্কার প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দকে অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে মাত্র ৫৮ হাজার টাকা অনুমোদন দেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অরেংকোনা গ্রামের গোরস্থান সংস্কারের জন্য ৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে যাচাই-বাছাই শেষে জেলায় প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসনের অনুমোদনে বরাদ্দ কমিয়ে মাত্র ৫৮ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “এইভাবে বরাদ্দ কমিয়ে দিলে প্রকল্প সম্পন্ন করা অসম্ভব। প্রশাসনের এমন অনিয়মে সাধারণ মানুষ হতাশ ও ক্ষুব্ধ।”
কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন অংশে গিয়ে দেখা গেছে, বরাদ্দের অভাবে অনেক উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে আছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সরকারি প্রকল্পে স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিক সুবিধা প্রদানের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এলাকার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ বলেন, “সরকার দুর্নীতি দমন ও সুশাসনের কথা বলছে, কিন্তু জেলা প্রশাসকের অফিসে এমন অনিয়ম হলে জনগণের আস্থা কোথায় যাবে?”
অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত করে যেসব কর্মকর্তা দায়িত্বের অপব্যবহার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কটিয়াদী জেলায় বর্তমানে আলোচনার একমাত্র বিষয় —
“ডিসির অফিসে যদি এমন দুর্নীতির ছায়া থাকে, সাধারণ মানুষ কি প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে পারবে?”