বাটপার শিক্ষকদের কাছ থেকে ছাত্ররা কি শিখবে?
দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা এখন হাস্যরসের এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেকে শিক্ষক নামের লোক আজ গর্ব করে বলছেন— “দেশি মুরগি কিনে খেতে পারি নাই!”
এই কথার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক ভণ্ডামির হাস্যকর ছবি। যারা ছোট ছোট শিশুদের শিক্ষা দেয়, নৈতিকতার গল্প শোনায়— তারাই আবার সমাজে দারিদ্র্যের অজুহাতে করুণার অভিনয় করে বেড়ায়। অথচ দেখা যায়, কেউ কেউ টাকাও রোজগার করেন মোটা অঙ্কে, শুধু নয়, টিউশন, প্রাইভেট আর নানা চালবাজির মাধ্যমেও।
প্রশ্ন হচ্ছে—
যখন শিক্ষক নিজের জীবনেই মিথ্যা, কপটতা আর বাটপারিতে ভরে যায়, তখন ছাত্ররা কি শিখবে?
আজ অনেক শিক্ষক নৈতিকতা শেখানোর বদলে নিজেরাই শিক্ষার্থীদের সামনে অনৈতিক আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। কেউ ঘুষ দিয়ে চাকরি নিচ্ছেন, কেউ উপস্থিতির ভুয়া তালিকা তৈরি করছেন, কেউ আবার রাজনৈতিক পরিচয়ে স্কুলের মালিকানা দেখাচ্ছেন।
একজন শিক্ষক যদি নিজের আত্মসম্মান হারিয়ে বলেন— “দেশি মুরগি কিনে খেতে পারি নাই”, তাহলে বোঝা যায়, শিক্ষাব্যবস্থা কতটা অপমানিত। শিক্ষক পেশা এখন যেন এক শ্রেণির লোকের ভণ্ডামির আস্তানা।
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের দায়িত্ব যাদের হাতে, তারা যদি নিজেদের চরিত্র ঠিক রাখতে না পারেন— তাহলে জাতি কখনোই আলোর পথে এগোতে পারবে না।
সময় এসেছে প্রকৃত শিক্ষকদের সম্মান দিতে, আর যারা পেশাকে কলঙ্কিত করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করার। কারণ সত্য একটাই—বাটপার শিক্ষকের কাছ থেকে ছাত্ররা কখনো মানু
ষ হতে পারে না।