কবি আব্দুল্লাহ আল মামুনের জুলাইয়ের কবিতা | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কবি আব্দুল্লাহ আল মামুনের জুলাইয়ের কবিতা

Motior Rahman Sumon avatar   
Motior Rahman Sumon
কবি আব্দুল্লাহ আল মামুনের জুলাইয়ের কবিতা
কবি আব্দুল্লাহ আল মামুনের জুলাইয়ের কবিতা
ছবি: সংগৃহীত
সভ্যতা, সময় ও উপলব্ধি ফিকে হয়
মানবের চাহিদা পূরণ হয়,
তবুও স্বস্তির মুখ দেখা না হয়,
স্বস্তিরা সব অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে নতুন আবেদনের ভিড়ে,
দুরন্তর পথে নিরন্তর ছুটে চলার এক অক্লান্ত অ..

কবি আব্দুল্লাহ আল মামুন এর জন্ম ময়মনসিংহ নগরে ২০০৩ সালের মহান বিজয় দিবসে অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর। তিনি মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন যথাক্রমে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল এবং ময়মনসিংহ সরকারি কলেজ থেকে। বর্তমানে তিনি অধ্যায়নত আছেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে।
কবিতার সাথেই বেড়ে ওঠা, কবিতাকে ঘিরেই স্বাচ্ছন্দ্য। স্কুল জীবন থেকেই বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন।মানব জীবনকে এক অলীক রহস্য মনে করেন, কবিতার দর্শন তার ভাবনার খোরাক।কবিতার শব্দের আড়ালেই ভাব প্রকাশে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার প্রকাশিত বেশির ভাগ লেখাই কবিতা। তার প্রকাশিত প্রথম বই ”ট্যালিপ্যাথি মৃত্যু” এছাড়াও বিভিন্ন সময় নানান সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তার কবিতা।“সাহিত্যনামা” শীর্ষক একটি সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশকও তিনি।
প্রিয় কবি “জীবনানন্দ দাশ”- এর কবিতার বোধ, গভীরতা, উপমা তাকে ভীষণভাবে স্পর্শ করে।

“প্রলয় বলয়”
✍️আব্দুল্লাহ আল মামুন

এই দীপ্তি এসেছে সাধারণ বুকে
এই বুকে খুন-সমুদ্র তাদের বন্দুকে,
সূর্যসারথি নিয়ে আসে রাঙা কিশলয়,
মৃতেরা চিরতরুণ,
সে দীপ্তি জমায় প্রলয় বলয়।

এই সাহসের জমিতে প্রতিটি বুলেট যেন বীজ,
বৃক্ষের নাম "স্বাধীনতা"
হৃদয়ভূমির প্রতিটি স্পন্দন বিপ্লবের ডামাডোল,
যার প্রতিটি প্রাণ মুক্তির দেবতা।

দ্বান্দিক হাকিমের ভুলে,
দন্ডিত বিবেক হারায় হিদায়াত,
আদালত হারায় ফুরকানিয়াত,
বেঁচে থাকার বিচারপত্রে লিখা হয়,
"শহীদের খুনের চেয়ে জ্ঞানীর কলমের কালি শ্রেয়"

হে প্রিয়,
মহাঅজ্ঞ বিচারপতি জানেন না,
বিপ্লবের ইতিহাস আগে তৈরি হয় শহীদের খুনে
কালিতে লিখা হয় পরে,
অধিকার আর স্বাধীনতা ফলে রাজপথে,
তোষামুদি সাজঘরে।


“প্রতিধ্বনি”
✍️আব্দুল্লাহ আল মামুন

অবশেষে শুনি, হাওয়ার প্রতিধ্বনি,
কী নিদারুণ আকুতি সভ্যতার!
কী মর্মভেদী দৃষ্টিবাণ সময়ের!
কী স্পর্শকাতর উপলব্ধি আদম মানবের!

সর্বপ্রাচীন আকাশের বুকে জমে থাকা সভ্যতা
বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে পরিত্যক্ত নগরীর বারান্দায়,
ঘড়ির কাটায় নিবদ্ধ এক মহাকাল সময়
উপলব্ধির জীবনে নেমে আসে চাহিদার কশাঘাত।

সভ্যতা, সময় ও উপলব্ধি ফিকে হয়
মানবের চাহিদা পূরণ হয়,
তবুও স্বস্তির মুখ দেখা না হয়,
স্বস্তিরা সব অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে নতুন আবেদনের ভিড়ে,
দুরন্তর পথে নিরন্তর ছুটে চলার এক অক্লান্ত অবিশ্রান্ত প্রয়াসে,
মেকি ছলনার ক্ষণিক ক্ষেপনে সময়ও বিষণ্ণ হয়,
তাকে নিয়ে আরও দ্রুত, আরও বেগে, আরও ছুটে চলার এক অসম্ভব প্রার্থনা সময়ের,
সময়ের এ প্রার্থনা কার দরবারে?
আমার না ঈশ্বরের?

প্রতিধ্বনিরা জোড়ালো হয়,
সভ্যতার হাওয়ায় জমে থাকা অর্বাচীন শিশিরবিন্দু থেকে সমুদ্র,
পরিত্যক্ত মাঠের বুনোঘাস থেকে আমাজন,
সকলেই জেগে থাকে,
বারংবার শুধু মৃত্যু হয় প্রকৃতির প্রতিবাদী প্রতিধ্বনির,

উপলব্ধির দাবি যখন আরও সূক্ষ্ম,
আদম সন্তানের জীবনবিলাস আরও স্থুল হয়,
বোধ, বধ হয় স্থুলকায় পদপিষ্টে,
গতি মন্থর, শ্লথ মানবের জীবন মোহাবিষ্ট,

শুধু  বেঁচে থাকে প্রাচীন হাওয়া,
এক সভ্যতা সাক্ষী, মহাকালের যাত্রী ও উপলব্ধির বাহক হয়ে,
অবশেষে প্রকৃতির বুকে কান পেতে শুনি,
হাওয়ার প্রতিধ্বনি।

Motior Rahman Sumon
Motior Rahman Sumon 4 মাস আগে
gd
0 0 উত্তর দিন
আরো দেখুন


News Card Generator