সেই ঘটনার ২০ দিন পার হলেও গঠন হয়নি তদন্ত কমিটি | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সেই ঘটনার ২০ দিন পার হলেও গঠন হয়নি তদন্ত কমিটি

Mynews 24 avatar   
Mynews 24
সেই ঘটনার ২০ দিন পার হলেও গঠন হয়নি তদন্ত কমিটি
সেই ঘটনার ২০ দিন পার হলেও গঠন হয়নি তদন্ত কমিটি
ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশ পাওয়ার ২০ দিন পার হলেও কতৃপক্ষ গঠন করেনি কোনো তদন্ত কমিটি।

 

বরগুনার ‘বেতাগীতে ফায়ার লাইসেন্স ১০ হাজার ও সিলিন্ডার ৫ হাজারে বিক্রি’ শিরোনামে গত ১৬ অক্টোবর এক অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশ পায় জাতীয় দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায়। প্রকাশ পাওয়ার ২০ দিন পার হলেও কতৃপক্ষ গঠন করেনি কোনো তদন্ত কমিটি। তবে,গত  ১৮ অক্টোবর জেলা উপ পরিচালক আলী সাজ্জাদ  ও বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের উপ পরিচালক মো. ফারুক হোসেন সিকদার বেতাগীতে প্রাথমিক তদন্ত আসেন এবং দায়সারা সাময়িক পিটির শাস্তি দিয়ে চলে যান। তবে এখনও এ বিষয়ে কেন তদন্ত কমিটি করা হয়নি সে বিষয়ে জেলা উপ পরিচালক আলী সাজ্জাদ  বলেন, আমরা তো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে হয়ত তদন্ত কমিটি করা হবে। প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি করা হয়নি কেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, এমন সূত্র ধরে আমরা কোন তদন্ত কমিটি করিনা ।
উল্লেখ্য, ফায়ার স্টেশনের সাব অফিসার সহ বেশ কয়েকজন ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে ফায়ার লাইসেন্স ও সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ ওঠে। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অগ্নি ব্যবস্থাপনা লাইসেন্সের জন্য দিতে হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের জন্য দিতে হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা।
সদর ইউনিয়নের জব্বার তালুকদার তার একটি দোকানের জন্য লাইসেন্স পেতে দিতে হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এমন জব্বারের মতো বেতাগী বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রায়হানের কাছে লাইসেন্স করতে দাবি করেছেন ৬ হাজার টাকা। এমন বহু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানে নামে মানবজমিন প্রতিবেদক । অনুসন্ধানে উঠে আসে তাদের রমরমা ব্যবসার চিত্র। ফায়ার স্টেশনের উত্তর পাশে চারতলা ভবনের ২য় তলায় একটি ফ্লাট বাসায় থাকেন ফায়ার ফাইটার তসলিম। সেই ফ্লাট বাসায় দেখা যায় অর্ধ শতের বেশি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র। বাসায় বসেই সরকারি এসব মালামাল বিক্রি করে আসছেন গত চার বছর ধরে। প্রতিবেদকের ক্যামেরায় ধরা পরার পর সব স্বীকার করে বলেন, আমি পেটের দায়ে এই কাজ করতে বাধ্য হইছি। এই চাকরি পেতে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। একা এটার সাথে জড়িত না। সাব অফিসার লতিফ স্যার  সহ সবাই এটার সাথে জড়িত। এ যন্ত্রের জন্য দুই-তিন হাজার টাকার বেশি নিই না। লাইসেন্সে সাবর কাছ থেকে ১০ হাজার নেওয়া হয় না । মানুষ বুঝে নিই। লাইসেন্সের জন্য বেশি টাকা নিতে হয় কারন যে স্বাক্ষর অনুমোদন দেয় তাকেও টাকা দিতে হয় ’ ।
এছাড়াও প্রতিবেদকের কাছে আসে টাকা নেওয়ার একটি গোপন ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, একদিনেই  লাইসেন্স ও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র দিবে বলে  রাব্বি নামের একজনের কাছ থেকে নগদ টাকা নিচ্ছে স্টেশনের এক সদস্য। ভুক্তভোগী রাব্বি বলেন, আমি ছোট তেলের (অকটেন/পেট্রল) দোকান দিতে উদ্যেগ নিই। এতে নাকি লাইসেন্স লাগবে ফায়ার সার্ভিসের। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা ১৫ হাজার টাকা আর ভোটার আইডি কার্ড ও ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে যেতে বলে । আমি গরিব মানুষ তাই হাজার দুই টাকা দিই কিন্তু তাদের ১৫ হাজার টাকাই লাগবে। পরে খালি ফোন দেয় আর বিকাশে টাকা চায়। আমি দিতেও পারিনি আর লাইসেন্সও পাইনি। ’
সাব অফিসার লতিফের নেতৃত্বে প্রধান ভুমিকায় কাজ করেন ফায়ার ফাইটার তসলিম। বাকি সদস্যরা যার যার জায়গা থেকে ডিল করে অফিসে আসতে বলেন। পুরো স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রাকারে এই কাজ করে আসছে।

Geen reacties gevonden


News Card Generator