নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক সমাজের বিক্ষোভে শনিবার দুপুরে প্রেস ক্লাব চত্বর রণক্ষেত্রের মতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে “সাংবাদিক ইউনিয়ন, নারায়ণগঞ্জ” ব্যানারে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত শতাধিক সাংবাদিক এ বিক্ষোভে অংশ নেন।
তাদের মূল দাবি—সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলাটির কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বক্তারা বলেন, বারবার তদন্তের নামে প্রহসন হয়েছে; সাংবাদিকেরা যদি বিচার না পান, তবে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কীভাবে?
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, শুধু সাগর-রুনি নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিহত বহু সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ড বিচারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতেই আজ সাংবাদিকরা রাস্তায় নেমেছেন। তারা জানান, এটি শুধু সাংবাদিকদের দাবি নয়, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই।
নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা হলেও অধিকাংশ গণমাধ্যমে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা বলেন, মাঠে আমরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি, গুলি-লাঠির সামনে দাঁড়াই, কিন্তু মাস শেষে ন্যায্য বেতন পাই না। ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন হলে সাংবাদিকদের মর্যাদা ও জীবনমান দুটোই উন্নত হবে। পাশাপাশি দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনেরও দাবি তোলেন তারা।
এ সময় অনেক সাংবাদিক জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। কেউ রাজনৈতিক চাপে, কেউ কাভারেজের কারণে চাকরি হারাচ্ছেন। এটি শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা একযোগে বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার চাই, সম্মানজনক বেতন চাই, নিরাপদ কর্মপরিবেশ চাই।” তারা ঘোষণা দেন—২১ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মাফুজুর রহমান, দি নিউ নেশন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এ আর ফররুখ আহমেদ খসরু, দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি এম আর কামাল, সিনিয়র সাংবাদিক নাহিদ আজাদসহ নারায়ণগঞ্জের প্রবীণ ও তরুণ রিপোর্টাররা।
সমাবেশ শেষে সাংবাদিকরা একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন—“সাগর-রুনির বিচার না হওয়া পর্যন্ত কলম থামবে না।”
তাদের মুখে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল স্লোগান—“বিচার চাই, অধিকার চাই, সাংবাদিকের নিরাপত্তা চাই।”
এই বিক্ষোভ শুধু একটি দাবিনামা নয়—এটি দেশের সংবাদমাধ্যমের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সাংবাদিক হত্যার বিচার ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।