এনসিপিকে শাপলাকলি দেওয়াতে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে: জাতীয় পার্টি মহাসচিব.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

এনসিপিকে শাপলাকলি দেওয়াতে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে: জাতীয় পার্টি মহাসচিব..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
এনসিপিকে শাপলাকলি দেওয়াতে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে: জাতীয় পার্টি মহাসচিব..
এনসিপিকে শাপলাকলি দেওয়াতে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে: জাতীয় পার্টি মহাসচিব..
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী অভিযোগ করেছেন, এনসিপির চাপে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এনসিপি ভোটে প্রভাব বিস্তার করলে কমিশন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে থাকবে।..

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এখন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। এনসিপির দাবির মুখে কমিশন শাপলা থেকে শাপলা কলি প্রতীক দিতে বাধ্য হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটের সময় এনসিপি যদি জোরপূর্বক আসন দখল করতে নামে, তখন নির্বাচন কমিশন হয়তো ঠুঁটো জগন্নাথের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের একটি হোটেলে জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, দেশে আদৌ নির্বাচন হবে কি না, কখন হবে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কি না? জাতীয় পার্টিকে কি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে?” — এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তবে তিনি দাবি করেন, জাতীয় পার্টি ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম। যদি তারা সেটা দেখাতে পারে, তখন জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে।”

জাতীয় পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, সরকার সম্প্রতি “সংস্কার উদ্যোগ” নিয়েছে জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়েই, যা দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। তার মতে, সংস্কারপন্থী দলগুলো ইতিমধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, ফলে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির পরিবর্তে সরকার দেশকে তিন ভাগে ভাগ করেছে — একদল ‘হ্যাঁ’, একদল ‘না’ এবং একদল ‘বঞ্চিত’।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি মিলিয়ে ৪৬ থেকে ৫৬ শতাংশ ভোটার তাদের সমর্থন দিয়েছিলেন। এই দুই দলকে বাদ দিয়ে সংস্কার বা নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করলে সেটা জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক হবে না, বরং আংশিক সংস্কারে সীমাবদ্ধ থাকবে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী দাবি করেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো স্বাভাবিক ছিল না; বরং সেগুলোতে জনগণের অংশগ্রহণ কম ছিল। জাতীয় পার্টি বাধ্য হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল, যা কখনো দলের ক্ষতির কারণ হয়েছে, আবার কখনো দলটিকে টিকিয়ে রাখার হাতিয়ারও ছিল।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টি আর শুধুমাত্র হলরুমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখন থেকে মাঠে-ময়দানে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।” তিনি আহ্বান জানান, ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের সংগঠিত হয়ে ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে প্রস্তুত থাকতে।

নীলফামারী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator