ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দীর্ঘ ১৬ বছর পর রংপুরে ফের শুরু হলো কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা—এক উৎসবমুখর পরিবেশে। বদরগঞ্জ মডেল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একযোগে অনুষ্ঠিত হয় এই পরীক্ষার প্রথম ধাপ। সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত টানা দেড় ঘণ্টা ধরে চলে পরীক্ষা, যেখানে অংশ নেয় উপজেলার প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেধাবী শিক্ষার্থী।
পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সার্বিক পরিবেশ ছিল শান্ত, সুশৃঙ্খল ও উদ্বুদ্ধকর। শিক্ষকরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তদারকি করেন প্রতিটি কক্ষ। এসময় রংপুর-২ আসনের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম নিজে উপস্থিত হয়ে পরিদর্শন করেন পুরো পরীক্ষা কার্যক্রম। তিনি প্রতিটি কক্ষ ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের প্রস্তুতি ও মনোভাব সম্পর্কে খোঁজ নেন, এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতেই। এমন সুশৃঙ্খল আয়োজন দেখে আমি অভিভূত।” তিনি শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য এবং ভবিষ্যতেও এমন উদাহরণ তৈরি করার পরামর্শ দেন।
মেধাবৃত্তি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা উপজেলা শিবির সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম জানান, “কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা যাচাইয়ের জন্য এই পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। পুরো পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, পরিদর্শক দলের উপস্থিতি বিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেছে।
কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ শোয়েবুর রহমান বলেন, “ইসলামী ছাত্রশিবির বহু বছর ধরে কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বৃত্তি প্রদান করে আসছে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দমননীতির কারণে এই উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আজ ১৬ বছর পর রংপুর জেলায় আবারও এই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যেখানে ৮টি উপজেলার মোট ১৩ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের মুহূর্ত।”
পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ বিরতির পর এমন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। তাদের মতে, এই মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ জাগানোর এক উৎসব।
অভিভাবক ও শিক্ষকরা মনে করেন, এ ধরনের পরীক্ষা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন উদ্দীপনা এনে দেয় এবং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরগুলোতে আরও বড় পরিসরে এই পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।
রংপুরে কিশোর কণ্ঠ মেধাবৃত্তির এই পুনরুজ্জীবন যেন প্রমাণ করে দিয়েছে—দমন যতই আসুক, মেধা কখনো থেমে থাকে না।