সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং দাবি করেছেন তিনি সামরিক শাসনের পর দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন; তবে এখন সেই অর্জনগুলো ঝুঁকির মুখে।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষ্য, "আমি প্রতিটি প্রাণহানিতে শোকাহত, তবে আমি কোনো ব্যক্তিগত হত্যার আদেশ দিইনি।" তিনি দাবি করেন, বেশির ভাগ সহিংসতা ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাঠ পর্যায়ের অসংগতি বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের ফলে এবং ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো দায় নেই।
যুক্তরাজ্যের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং রয়টার্সকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তাদের কোটি কোটি সমর্থক ভোট বর্জন করবে। তিনি বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত বছরের আগস্টে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য সাক্ষাৎকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, 'সাধারণ বিবেকের জাগরণ ঘটবে' এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করেন, ভোটারদের বড় অংশকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা গণতন্ত্রবিরোধী এবং আত্মঘাতী পদক্ষেপ।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনা সেই সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, 'এই সংখ্যা অতিরঞ্জিত। আমরা বরং প্রাণহানি কমাতে ব্যবস্থা নিয়েছি।'
দেশে ফেরা নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি অবশ্যই দেশে ফিরতে চান। তবে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে হওয়া নির্বাচনের পর যেই সরকারই আসুক, তাদের সময়ে তিনি দেশে ফিরবেন না এবং ভারতেই অবস্থান করবেন।
নিজের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি চাই, মানুষ আমাকে স্মরণ করুক সেই নেতা হিসেবে, যিনি সামরিক শাসনের পর দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন, এবং যিনি লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই অর্জনগুলো ঝুঁকির মুখে।" তিনি আরও জানান, দলের নেতৃত্ব তার পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হবে না এবং দেশের সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য।