জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম বলেছেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টাকেই আদেশ জারি করতে হবে, কারণ তারা হাসিনার নিয়োগ করা প্রেসিডেন্টকে বিশ্বাস করেন না।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম বলেছেন, জুলাই সনদকে শুধু স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং প্রধান উপদেষ্টাকে এর জন্য একটি আদেশ জারি করতে হবে। আজ শুক্রবার রাজধানীর রামপুরায় এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “প্রেসিডেন্টকে আমরা বিশ্বাস করি না, এটা হাসিনার নিয়োগ করা প্রেসিডেন্ট। তাঁর কোনো আদেশ আমরা মানি না।” আইনের যদি কোনো সুযোগ থাকে, তবে প্রধান উপদেষ্টাকেই সেই সুযোগ নিয়ে আদেশ জারি করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের রামপুরা থানা শাখা আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন, সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করাসহ মোট পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
এ টি এম মাসুম গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তারা নভেম্বরের মধ্যে গণভোট সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। একটি বড় দলের সঙ্গে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট করার প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। একই দিনে গণভোট করা হলে একটি গোলযোগ তৈরি হবে এবং প্রার্থীরা নিজেদের পাস করানো নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, ফলে গণভোট নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা থাকবে না। এতে জনগণের চাওয়া-পাওয়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ক্ষমতায় গেলে জামায়াতের পরিকল্পনা তুলে ধরে মাসুম বলেন, তারা নারীদের মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং তাদের জন্য সবকিছুই শালীনতা বজায় রেখে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবেন। তিনি বর্তমান সভ্যতার সমালোচনা করে বলেন, ইসলাম নারীদের নারী রেখে যে স্বাধীনতা দিয়েছে, সেটাই সম্মানজনক। এছাড়াও, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে অমুসলিমদের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত হবে এবং ব্রিটিশ আমলের পুরোনো আইনের পরিবর্তে একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী করে রাষ্ট্র, সংবিধান এবং বিভিন্ন আইনকানুন সংস্কার ও রচনা করা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
জামায়াতের রামপুরা থানা উত্তরের আমির ফজলে আহমেদ ফজলুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি মো. নাজিম উদ্দিন মোল্লা।