এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বিচারের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে স্থিতিশীলতা নষ্টের সমালোচনা করেন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, বিচারের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের ভুল বুঝে সঠিক পথে ফিরে আসুক। ঝিনাইদহ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় পার্টিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জাতীয় পার্টি তাঁদের অন্যায়ভাবে সহযোগিতা করেছে, এই উপলব্ধি করে জাতির কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
তিনি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভেদের রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানান। মঞ্জু বলেন, যারা অতীতে বিভেদের রাজনীতি করেছেন, বিভেদ বাদ দিয়ে তারা মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতিতে আসুন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আর কত ঝগড়া করব আমরা, আর কত লাশ ঝরাব, আর কত ক্যাম্পাস রক্তাক্ত হবে?" এই মন্তব্য দেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতি তার হতাশার ইঙ্গিত দেয়।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে একপক্ষীয় নির্বাচন করে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরকার কায়েম করে একধরনের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন। তিনি মনে করেন, সদ্য সমাপ্ত গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে জোর করে ক্ষমতায় থাকা যায় না, একদিন না একদিন তার করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়।
দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। মঞ্জু জানান, গণ-অভ্যুত্থানের পর তাদের আশা ছিল—রাষ্ট্রকে সুন্দর করে গুছিয়ে দেশকে একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নেওয়া হবে, দোষীদের বিচার, আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন এবং সংস্কারের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সুন্দর একটা নির্বাচনের দিকে যাবে। কিন্তু নানা ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে আজ শঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠুভাবে হবে কি না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার তিনটি রাজনৈতিক দলকে খুশি করার চেষ্টা করছে এবং তাদের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। অথচ অতীতের তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর মতো তাদের চাপে রাজনৈতিক দলগুলো দিশেহারা হওয়ার কথা ছিল।
মতবিনিময় সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান ঝিনাইদহের ৩টি আসনে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাঁদের সহযোগিতা কামনা করেন। ঝিনাইদহ-১ আসনে অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-২ আসনের যুব ইউনিটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান খোকন এবং ঝিনাইদহ-৩ আসনের মুফতি মুজাহিদুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।