প্রকাশিত হলো এক ব্যতিক্রমী আঙ্গিকে। এটিকে চিরায়ত উপন্যাসের পরিবর্তে 'ফিকশন জার্নাল' হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যেখানে লেখকের ব্যক্তিগত দিনলিপির ঢঙে এক রহস্যময় থ্রিলারের কাহিনি এগিয়ে চলে। Naven publications থেকে প্রকাশিত হয়েছে এই বইটি।
এক কিশোরের ব্যক্তিগত দিনলিপিতে রহস্যের ঘনঘটা:
'রিসোর্ট নং ৩' উপন্যাসের আখ্যান আবর্তিত হয়েছে ১৮ বছরের তরুণ আমিনকে নিয়ে। অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং অন্তরঙ্গ জার্নাল আকারে লেখা এই কাহিনিতে আমিন তার জীবনের ধারাবাহিক অদ্ভুত ও ভয়ংকর ঘটনাগুলো তুলে ধরেছে। কেরানীগঞ্জের এক রিসোর্টে বন্ধুদের সঙ্গে তার ভ্রমণের পর থেকেই শুরু হয় রহস্যের সূত্রপাত।
- জার্নালের প্রধান উপাদান: ব্যক্তিগত এই জার্নালটির প্রধান আকর্ষণ হলো—আমিনের বাবার মৃত্যুর পরও বিল পরিশোধ, রিসোর্ট কর্মচারীদের 'ভিআইপি' সম্বোধন, এবং ফ্ল্যাটের ছাদে বাইনারি সংখ্যায় লেখা জন্মতারিখের মতো ঘটনাগুলোর নিজস্ব ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ।
- আঙ্গিক ও কাঠামো: বইটি এমনভাবে লেখা হয়েছে যে পাঠক মনে করবেন তারা সরাসরি আমিনের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং তার পারিপার্শ্বিক ঘটনাগুলির সাক্ষী হচ্ছেন।
- গোপন সত্যের পর্দা উন্মোচন: ফিকশন জার্নালটি ধীরে ধীরে আমিনের পরিবারের দীর্ঘদিনের চাপা থাকা দুঃখজনক সত্য (মায়ের গর্ভে মারা যাওয়া ভাই 'সৌরভ' এবং দাদীর অভিশাপ) উন্মোচন করে।
লেখক শাহরিয়ার রহমান এই ব্যতিক্রমী আঙ্গিক প্রসঙ্গে বলেন, "আমি চেয়েছিলাম পাঠক যেন গল্পের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি ভয় এবং প্রতিটি সন্দেহ আমার চরিত্রের সাথে অনুভব করতে পারে। জার্নাল আঙ্গিকটি সেই নিবিড় সংযোগ সৃষ্টি করেছে। এটি শুধু একটি রোমাঞ্চকর ফিকশন নয়, বরং সত্য উদ্ঘাটনের একটি ব্যক্তিগত দলিল।"