এনসিপি শাপলা প্রতীক নিয়ে অনড় থাকলেও, সাবেক নেত্রী নীলা ইস্রাফিল নৈতিকতা ও আইনকে ঢাল করে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন রাষ্ট্রের প্রতীককে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে।
জাতীয় প্রতীক 'শাপলা'কে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক এখন কেবল আইনি সীমাবদ্ধতা নয়, বরং রাজনীতিতে নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের পছন্দের প্রতীক 'শাপলা' দাবি করে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লিখিত দিলেও, দলটির সাবেক নেত্রী নীলা ইস্রাফিল এই প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, রাষ্ট্রের প্রতীককে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা গণতন্ত্রের নীতি ও নৈতিকতার পরিপন্থী।
এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রোববার ইসি সচিবের কাছে তাদের প্রতীক হিসেবে শাপলার দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি প্রতীক অন্তর্ভুক্তির নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছেন। এই দাবির প্রেক্ষিতেই অভিনেত্রী নীলা ইস্রাফিল তার ফেসবুক পোস্টে এই বিতর্কটির কেন্দ্রবিন্দু স্পষ্ট করেন।
নীলা ইস্রাফিল পরিষ্কারভাবে যুক্তি দেন যে, 'শাপলা' ফুলটি বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রবিন্দু। সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে এর সুস্পষ্ট বর্ণনা আছে। অতএব, এটি কোনো সাধারণ প্রতীক নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরিচয় এবং মর্যাদার ধারক।
তিনি আইনি ব্যাখ্যা হিসেবে Election Symbols (Allocation and Registration) Order, 1972-এর নির্দেশনা তুলে ধরেন। এই আইন অনুসারে, জাতীয় প্রতীক, ধর্মীয় চিহ্ন, বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক কোনো রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ করা যাবে না। তার মতে, এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় প্রতীকের অপব্যবহার রোধ করা এবং রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা।
এনসিপি’র প্রতীক দাবির মাধ্যমে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তি নষ্ট করার আশঙ্কা আছে বলে নীলা ইস্রাফিল মনে করেন। তিনি বলেন, "শাপলা মানে বাংলাদেশ, কিন্তু বাংলাদেশ কারও দলের নয়।" রাজনীতিতে প্রতীক শুধুমাত্র ভোট আকর্ষণের মাধ্যম নয়, এটি একটি বিশ্বাসের চিহ্ন। আর 'শাপলা'র প্রতি এই বিশ্বাস দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের।
তিনি সেইসব যুক্তিরও সমালোচনা করেন, যারা 'ধানের শীষ'কে জাতীয় উপাদান দাবি করে শাপলার প্রতীক চাওয়ার যৌক্তিকতা খোঁজেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'ধানের শীষ' কৃষিভিত্তিক সমাজের চিহ্ন হলেও এটি জাতীয় ফুল বা প্রতীকের অংশ নয়, যেমনটা 'শাপলা' জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রবিন্দু। এই আইনি পার্থক্যই শাপলাকে দলীয় প্রতীক হওয়া থেকে বিরত রাখে।
নীলা ইস্রাফিলের চূড়ান্ত আহ্বান হলো: যারা সত্যিকারের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তাদের উচিত রাষ্ট্রকে দলীয়করণের চেষ্টা না করে রাষ্ট্রকে তার নিজস্ব মর্যাদা নিয়ে থাকতে দেওয়া। তার মতে, যখন আইন যেমন বলছে না, তখন নৈতিকতাও বলছে এই প্রতীক কাউকে দেওয়া যাবে না।
আইন, সংবিধান এবং নৈতিকতার প্রশ্নে শাপলা প্রতীক নিয়ে এনসিপি’র এই অনড় অবস্থান দেশের রাজনীতিতে প্রতীক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ব্যবহার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিল।