গাজীপুর জেলা টঙ্গী সরকারি কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করে জীবনের প্রয়োজন ও স্বপ্নকে একসাথে বুনেছেন এক তরুণী–সুমাইয়া সুমি। প্রথাগত চাকরির পেছনে না ছুটে, তিনি বেছে নেন এক সৃজনশীল ও সাহসী পথ–অনলাইনে কেক বিক্রি। সময়ের সাথে “হোমমেড বেকারি” হয়ে উঠেছে একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড, যা এখন তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে তার প্রতিষ্ঠান “হোমমেড বেকারি” পেয়েছে শিল্প নিবন্ধন সনদপত্র (নং: FE-20250428-0020216)। বিসিকের উপপরিচালক মোহাম্মদ হানিফ স্বাক্ষরিত এই সনদ তার উদ্যোক্তা জীবনে এক নতুন স্বীকৃতির দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
প্রারম্ভে বহু বাধা পেরোতে হয়েছে সুমিকে। কেউ বলেছেন–“এই ব্যবসা টিকবে না”, কেউ বলেছেন–“এত প্রতিযোগিতায় সফল হওয়া সম্ভব নয়।” কিন্তু দৃঢ় মনোবল, মেধা ও অধ্যবসায় দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন–ইচ্ছা থাকলে অসম্ভবও সম্ভব।
ডিজিটাল যুগের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেক বিক্রির মাধ্যমে তিনি তৈরি করেছেন একটি স্থিতিশীল অনলাইন ব্যবসা। শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, আশপাশের অন্তত দশজন নারীকে শিখিয়েছেন কেক তৈরির পদ্ধতি ও অনলাইন উদ্যোক্তা হওয়ার কৌশল।
সুমি বলেন, শুধু কেক বিক্রি নয়, আমি চাই প্রতিটি গ্রাহক আমার কেকের স্বাদে খুঁজে পাক আনন্দ আর ভালোবাসা–এটাই আমার সফলতা।
তার ফেসবুক পেজ Homemade Bakery এখন ভরপুর অর্ডারে—জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা উৎসব–প্রতিটি কেকই তৈরি হয় আন্তরিকতা ও নান্দনিক ছোঁয়ায়।
সুমাইয়া সুমি এখন শুধু একজন উদ্যোক্তা নন, তিনি এক প্রেরণার প্রতীক। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নতুন প্রজন্মকে বার্তা দেন – স্বপ্ন যদি সত্য হয়, আর পরিশ্রম যদি নিরলস হয়-তাহলে কোনো বাধাই সাফল্যকে আটকে রাখতে পারে না।