বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সতর্ক করেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করে, তবে দেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার কালো মেঘ নেমে আসবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো যদি জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করে, তাহলে দেশের রাজনৈতিক আকাশ কালোমেঘে ঢেকে যাবে।” তিনি অভিযোগ করেন, “গণভোট নিয়ে অযথা বিতর্ক ও জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক।”
অনুষ্ঠানটিতে রিজভী উপস্থিত ছিলেন এক মানবিক উদ্যোগে। সেখানে তিনি এক ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন, যিনি তার সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এই ঘটনাটি সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে “কিডনি বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য বিজ্ঞাপন” শিরোনামে প্রচারিত প্রতিবেদনে উঠে আসে।
রিপোর্টটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের নজরে আসে। পরে তিনি সংগঠনটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন হুমায়রা জাহান হুমাশার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সহায়তা দিতে।
গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রায় যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে ফ্যাসিবাদীরা সেই সুযোগ নিয়ে আবারও জনগণের অধিকার কেড়ে নেবে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং কোনোভাবেই একনায়কতন্ত্রের পুনরুত্থান হতে দিতে পারি না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “একজন বাবা নিজের সন্তানের জীবন বাঁচাতে কিডনি বিক্রি করেছেন—এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বিএনপি পরিবার সবসময় অসহায় মানুষের পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা চেষ্টা করব হুমাশার পরিবারের চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেওয়ার।
এই ঘটনা প্রমাণ করে দেশে স্বাস্থ্যসেবা কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। আমরা চাই, এই দেশে যেন কোনো মানুষ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর মুখে না পড়ে। সরকার যদি সত্যিই মানবতার পক্ষে থাকত, তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না।”
তিনি এ সময় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা গণভোটের নামে নাটক সাজাচ্ছে, যাতে বিরোধী মতকে দুর্বল করে নিজেদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করা যায়। কিন্তু জনগণ এখন জেগে উঠেছে, তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে।
রিজভী শেষে আহ্বান জানান, “দেশের ভবিষ্যতের জন্য, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সব রাজনৈতিক দলকে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে হবে। তা না হলে কালো মেঘে ঢেকে যাবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।