নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি’ বললেন ছাত্রদলকে-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি’ বললেন ছাত্রদলকে-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা..

Mahamud Mithu avatar   
Mahamud Mithu
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি’ বললেন ছাত্রদলকে-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা..
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি’ বললেন ছাত্রদলকে-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতা..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোভিসিকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ছাত্র রাজনীতির উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। শিবির নেতা ছাত্রদলকে 'নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।..

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হলে অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রোভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গত বুধবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই ঘটনা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোহরাওয়ার্দী হলের ফলাফল ঘোষণার পর কিছু প্রার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রোভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন সেখানে উপস্থিত হন। এর পরপরই ছাত্রদল সমর্থিত কিছু প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা প্রোভিসিকে লক্ষ্য করে উত্তেজিত স্লোগান দিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে প্রোভিসিকে আইটি ফ্যাকাল্টির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল সূত্র জানায়, রাত আড়াইটার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অধ্যাপককে উদ্ধার করে। তবে এই সময় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয় এবং কিছু শিক্ষার্থী প্রোভিসি ও তার সঙ্গে থাকা শিক্ষকদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেন।

ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি ছাত্রদলের আচরণের সমালোচনা করে লেখেন, 'প্রতিটি ক্যাম্পাসে তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতে চলেছে। শিক্ষার্থীরা এ কারণেই ব্যালটের মাধ্যমে তাদের লাল কার্ড দেখাচ্ছে।'

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক যুগ পর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত 'সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট' প্যানেল ২৬টির মধ্যে ২৪টি পদে জয়ী হয়েছে। ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন ইব্রাহিম রনি এবং জিএস সাঈদ বিন হাবিব। একমাত্র এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক জয়ী হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এক যুগ নিষ্ক্রিয় থাকার পর শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীদের এই জয় ক্যাম্পাসে একটি নতুন শক্তির উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, ছাত্রদলের একমাত্র বিজয় প্রতীকী হলেও তাদের আচরণ ভবিষ্যতে সহিংস রাজনীতির পূর্বাভাস দিতে পারে।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, মন্তব্য করেন, 'চবির রাজনীতি সব সময়ই জাতীয় রাজনীতির প্রতিফলন। ছাত্রলীগের এক সময়ের দাপটের পথেই এখন ছাত্রদল হাঁটছে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ব্যালটের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এমন রাজনীতি চায় না।'

চবি প্রক্টরিয়াল বডির এক সদস্য বলেন, 'ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শিক্ষকদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসন এ বিষয়ে শূন্য সহনশীল নীতি অবলম্বন করবে।' এই ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করেন, ক্যাম্পাসে সহনশীলতার রাজনীতি ফিরিয়ে আনার যে প্রচেষ্টা চলছিল, তা আবারও বিপদে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসন ঘটনাটির পুনর্মূল্যায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসন আরও সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator