হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সর্বশেষ তালিকায় ছয় ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশের পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবেন ৩৮টি দেশে।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট শক্তি ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় এবার দেশটি নেমে এসেছে ১০০তম স্থানে। আগের বছর যেখানে বাংলাদেশ ৯৬তম অবস্থানে ছিল, সেখানে চলতি বছরে ছয় ধাপ পিছিয়ে পড়েছে। সর্বশেষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স, যা বৈশ্বিকভাবে পাসপোর্টের শক্তিমাত্রা মূল্যায়নে অন্যতম স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান।
সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকরা বর্তমানে বিশ্বের ৩৮টি দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন। তবে বিশ্বের বাকি দেশগুলোতে যেতে হলে আগেভাগে ভিসা সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায়ও পিছিয়ে আছে। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের পাসপোর্ট শক্তিও বাংলাদেশকে অতিক্রম করতে পারেনি, তবে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ এগিয়ে আছে।
এদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা এখন ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন ১৯৩টি দেশে। দীর্ঘদিন শীর্ষে থাকা জাপান এবার নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে, আর দক্ষিণ কোরিয়া আছে দ্বিতীয় অবস্থানে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঁচ দেশ—জার্মানি, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড—যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইউরোপের আরও কিছু দেশ যেমন অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসও পঞ্চম স্থান ভাগাভাগি করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য রয়েছে তালিকার অষ্টম স্থানে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১২তম। একসময় ভিসা সুবিধার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পাসপোর্টধারী দেশ, কিন্তু গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ভিসা নীতির পরিবর্তন এবং ভূরাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গেছে।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট শক্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেসব দেশ ভ্রমণবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব এবং আন্তর্জাতিকভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে, তাদের পাসপোর্টই বেশি শক্তিশালী হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের নাগরিকদের বিদেশে কর্মসংস্থান ও অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর নীতিমালা এবং কিছু দেশে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি রয়েছে। ফলে, বাংলাদেশের পাসপোর্ট শক্তিশালী করতে হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা ও অর্থনৈতিক কূটনীতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই র্যাংকিং পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয় কোনো দেশের নাগরিকরা কতগুলো দেশে ভিসা ছাড়াই, অন-অ্যারাইভাল ভিসা বা ই-ভিসা সুবিধা নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন তার ওপর ভিত্তি করে। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের এই তালিকা নিয়মিতভাবে আপডেট করা হয় এবং এটি বিশ্বব্যাপী ১৯৯টিরও বেশি পাসপোর্ট ও ২২৭টি গন্তব্য দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রস্তুত করা হয়।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পাসপোর্ট শুধু ভ্রমণের কাগজ নয়, বরং একটি দেশের মর্যাদা, কূটনৈতিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের প্রতিফলন। তাই, বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করতে হলে শুধু কূটনীতি নয়, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতিতেও ভারসাম্য আনতে হবে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।