নেসকোর কর্মকর্তাদের কলিজা ছিঁড়ে ফেলার হুমকি সারজিসের | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নেসকোর কর্মকর্তাদের কলিজা ছিঁড়ে ফেলার হুমকি সারজিসের

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
নেসকোর কর্মকর্তাদের কলিজা ছিঁড়ে ফেলার হুমকি সারজিসের
নেসকোর কর্মকর্তাদের কলিজা ছিঁড়ে ফেলার হুমকি সারজিসের
ছবি: সংগৃহীত
At the closing of a 165 km long march in Panchagarh, BNP-affiliated leader Sarjis Alam issued a stern warning to NESCO over repeated power outages, calling the incidents suspicious and vowing strong a..

পঞ্চগড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ১৬৫ কিলোমিটার লংমার্চের সমাপ্তি বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নেসকোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন; তিনি দাবি করেন পরিস্থিতি ‘কাকতালীয়’ নয় এবং পুনরাবৃত্তি হলে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে অনুষ্ঠিত ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ লংমার্চ সমাপ্তি সংগৃহীত অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনার পর নৈরাশ্য প্রকাশ করে নেসকোকে উদ্দেশ্য করে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরে তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করে ওই বক্তব্য প্রদান করেন এবং বলেন, এ ধরনের পুনরাবৃত্তি হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সারজিস আলম তার বক্তব্যে বলেন, ‘গত এক মাসে আমাদের তিনটি কর্মসূচি হয়েছে; প্রতিবারই কর্মসূচির সময় বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। এক-দুই দিন হঠাৎ করে হলে আমরা ভিন্নভাবে ভাবতাম। কিন্তু প্রতিবারই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে আমরা মনে করি এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।’ তিনি আরও দাবি করেন, যারা এই কাজ করেছে তারা ‘রাজনৈতিক দেউলিয়া, চাটুকার ও তোষামোদকারী’ এবং তাঁদের দেখিয়ে দেওয়ার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে জানান।

উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি কড়া ভাষায় আরও বলেন, ‘আপনারা যদি এই অবস্থা অব্যাহত রাখেন, প্রয়োজন হলে তাদের কলিজা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে রাখব।’ এই বিবৃতি শোনা গেলে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গেছে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে বিষয়টি আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

এ ঘটনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর একটি লক্ষ্যভিত্তিক বাধা হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগও উচ্চারিত হয়েছে। সারজিস আলমের অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মসূচির সময় বারবার বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়া কোনো স্বাভাবিক ত্রুটি নয় বরং কিছু পক্ষের পরিকল্পিত সহায়কতা বা বাধা সৃষ্টির অংশ হিসাবে দেখা হচ্ছে। তিনি এই ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজনৈতিক সমাবেশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ঘটলে তা সমাবেশ পরিচালনা ও প্রতিক্রিয়া প্রভাবিত করে এবং জনসমক্ষে নেতাদের বক্তব্য পৌঁছাতে বাঁধা সৃষ্টি করে। যে কোনো তীর্থস্থান বা জনসভায় এমন ধরনের ঘটনার রাজনৈতিক স্পষ্টকরণ হলে তা স্থানীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে। নির্বাচনকালীন বা প্রতিবাদী কর্মসূচির সময় এ ধরনের ঘটনার রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি করে সম-কালের বিশ্লেষকরা।

নেসকো বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করার মতো কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি; প্রতিক্রিয়া জানা গেলে তা প্রকাশ করা হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলেও মনে করেন কিছু স্থানীয় আইন-ব্যবস্থার বিশ্লেষকরা। অপরদিকে, রাজনৈতিক নেতাদের কড়া ভাষা কখনো কখনো প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখা হলেও সেগুলো উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপের আহ্বানও তুলতে পারে।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ নাগরিকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন—কেউ কেউ সারজিস আলমের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন যে, ভ্রূকুটি-পূর্ণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেকোনো গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে ব্যাহত করে এবং দায়ীদের বিচার হওয়া প্রয়োজন; আবার অনেকে বলছেন, হুমকি-সুলভ ভাষা অবাঞ্চিত ও উত্তেজনাকর। আইনগত পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যে কোনো হিংসাত্মক বিবৃতির আইনি পরিণতি থাকতে পারে, এবং রাজনৈতিক নেতাদের প্রচারণা-ভিত্তিক বক্তব্যে সীমা রক্ষা করা উচিত।

নির্বাহী পর্যায়ে এই ঘটনার কর্মসূচি পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্নও উঠেছে। কর্মসূচির সময় বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের জন্য কি ধরনের পূর্বনির্ধারিত প্রক্রিয়া ছিল—এই প্রশ্ন এখন অনেকেরই মনে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদারকি ও প্রস্তুতি নেয়নি, যার ফলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। অপরদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তা যদি পরিকল্পিতভাবে পুনরাবৃত্তি করা হয় তাহলে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই ধরে নেওয়া হবে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা।

ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজনকারী পক্ষ বলেছে তারা শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ শেষ করেছেন এবং পরের কার্যক্রম সম্পর্কে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি; তারা প্রত্যাশা করছেন যে, প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের যথাযথ ও স্বচ্ছ তদন্ত করবে। স্থানীয় জনগণও দাবি করেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্বিঘ্নে চলার পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে স্থানীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা কমবে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এই ঘটনার পর পরবর্তী দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে উত্তেজনা বাড়তে পারে—বিশেষত যদি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত না করা হয় বা উত্তরদায়ী কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া না হয়। দলের অভ্যন্তরীণ নেতারা অনুষ্ঠিত সমাবেশ এবং সারজিস আলমের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পরামর্শ সভা ডাকতে পারেন এবং পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে নতুন কৌশল নির্ধারণ করতে পারেন।

প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময় পর্যন্ত নেসকো কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি; প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা এলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোর মাধ্যমে জানানো হবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator