সংসার চালাতে পারতো না, টেলিভিশনের মালিক হয়ে গেল : মাসুদ কামাল.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সংসার চালাতে পারতো না, টেলিভিশনের মালিক হয়ে গেল : মাসুদ কামাল..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সংসার চালাতে পারতো না, টেলিভিশনের মালিক হয়ে গেল : মাসুদ কামাল..
সংসার চালাতে পারতো না, টেলিভিশনের মালিক হয়ে গেল : মাসুদ কামাল..
ছবি: সংগৃহীত
Veteran journalist Masud Kamal raised eyebrows saying those who once struggled to survive are now TV channel owners, questioning how they managed such massive investments and approvals overnight.

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, যারা একসময় সংসার চালাতে পারতেন না, তারাই এখন টেলিভিশনের মালিক। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এত বিপুল অর্থ ও অনুমোদনের উৎস কোথায়?

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বলেছেন, “যারা একসময় সংসার চালাতে পারতো না, তারা আজ টেলিভিশনের মালিক হয়ে গেছে।” তিনি দাবি করেন, টেলিভিশন চালানোর ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম ও আর্থিক যোগ্যতা প্রমাণের প্রয়োজন হয়, কিন্তু সম্প্রতি যারা অনুমোদন পেয়েছেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি বলেন, “টেলিভিশন চালাতে গেলে নিয়ম আছে। প্রপার্টির হিসাব, ব্যবসার কাগজপত্র, ইনকাম ট্যাক্স—all কিছুই দেখাতে হয়। কিন্তু তারা এগুলো দেখাল কীভাবে?”

মাসুদ কামালের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বৈরাচারী শাসনের নিয়মে দুইটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদনপ্রাপ্ত দুইজনের নামই আরিফুর রহমান, যারা জাতীয় নাগরিক পার্টি বা আগের নাগরিক কমিটির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর বলেছেন, এদের আমি চিনি। এরা একসময় আমার সঙ্গে আন্দোলন করতো। এদের সংসার চালানোরও ক্ষমতা ছিল না। একজন ইংরেজি পত্রিকায় চাকরি করতেন, আরেকজন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। একজন বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টারের মাসিক বেতন ১০-১২ হাজার টাকার বেশি নয়—আমি সাংবাদিকতা করি ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে, তাই ভালোভাবেই জানি।”

মাসুদ কামাল প্রশ্ন তোলেন, “যাদের সংসার চলতো না, তারা আজ টেলিভিশনের মালিক হলো কীভাবে? তারা এত অল্প সময়ে কোটি টাকার বিনিয়োগের ক্ষমতা পেল কোথা থেকে?”

তিনি বলেন, “তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন মাহফুজ আলম। কিছুদিন আগেই তিনি সিজিএসের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা নতুন টেলিভিশনের অনুমোদন দিচ্ছি না। অথচ তার এক সপ্তাহের মধ্যেই দুইটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন হয়ে গেল। এখন মাহফুজ আলম কী বলবেন?”

মাসুদ কামাল বলেন, “এটাই হলো স্বজনপ্রীতি। নিজেদের ঘনিষ্ঠ মানুষদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটাই অন্যায়। আগামীতে যদি একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসে, তারা কি এই স্বজনপ্রীতির বিচার করবে না? নিশ্চয়ই করবে।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এখন এ ধরনের অনুমতি পাচ্ছেন, তারা জানেন তাদের এই সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ দায় আছে। তাই তারা ‘সেফ এক্সিট’ খুঁজছেন।”

মাসুদ কামালের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলছেন, দেশের মিডিয়া খাতে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এই মন্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

তবে বিষয়টি এখন জনমনে একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন কি যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে হচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কই এখানে মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে?

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator