জামালপুরের বকশীগঞ্জে পুলিশি অভিযানের সময় এক নাটকীয় ঘটনা ঘটে, যেখানে মাদক ব্যবসায়ী লিটন মিয়াকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বকশীগঞ্জ পৌরসভার সওদাগরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লিটন মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ লিটন মিয়াকে আটক করে পুলিশ। তবে, পুলিশ যখন তাকে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন লিটনের পরিবারের সদস্য ও তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায় এবং তাকে ছিনিয়ে নেয়।
এই আক্রমণে এসআই রাসেল আহাম্মেদ ও কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায় যে, ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে সাড়াশি অভিযানের মাধ্যমে পুনরায় লিটন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, "পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা প্রদানের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আমরা এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেব না।"
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রচণ্ড উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করার জন্য তৎপর রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, এলাকাবাসী আশা করছেন যে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। জামালপুরের এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই ঘটনার মাধ্যমে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।