কটিয়াদীতে ইঁদুরের উপদ্রবে ফসল নষ্ট — দিশেহারা কৃষক, ক্ষতির ছায়া ছড়িয়েছে সর্বত্র !
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গাংকুলপাড়া গ্রামের পরিশ্রমী কৃষক আলীমুজ্জামান মহসিন এ মৌসুমে ধান চাষ করে আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ইঁদুরের মারাত্মক উপদ্রবে তাঁর ফসলি জমির ধানগাছ একের পর এক নষ্ট হয়ে যায়। গাছের গোড়া কেটে ফেলার ফলে শীষে ধান আসার আগেই পুরো জমি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরিশ্রমের ঘামে সিঞ্চিত জমি আজ পড়ে আছে উজাড়, ফসলহীন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মহসিন গভীর কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, “ইঁদুরে আমার প্রায় পুরো জমির ফসল শেষ হয়ে গেছে। নিজের চোখে দেখতে কষ্ট হয়— এত পরিশ্রমের ফল মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল। এখন আমি পুরোপুরি দিশেহারা।”
স্থানীয় কৃষক সমাজ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কটিয়াদীর বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইঁদুরের উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, রাতে মাঠজুড়ে ফসল কেটে ফেলার মতো দৃশ্য এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এতে অনেক জমির মালিক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এসময় আরো অভিযোগ উঠে এসেছে, কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা একইভাবে ইঁদুরের উপদ্রবে ফসল হারিয়ে হতাশায় ভুগছেন। কোথাও তেমন কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা সচেতনতামূলক উদ্যোগ দেখা যায়নি। কৃষকরা বলছেন, যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তবে পুরো মৌসুমের ফসল বিপন্ন হতে পারে।
গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষক— অথচ তাদের এই দুর্ভোগের দিকে তেমন কারও নজর নেই। স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ফসলের ক্ষতি শুধু একজন কৃষকের নয়, এটি পুরো এলাকার অর্থনীতির ক্ষতি।” তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ইঁদুর দমন কার্যক্রম চালু এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের মুখে একটাই আহাজারি — “আমরা পরিশ্রম করি দেশের খাদ্য যোগাতে, অথচ আজ নিজেদের খাবারই
অনিশ্চিত।”