আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে জামায়াত | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে জামায়াত

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে জামায়াত
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে জামায়াত
ছবি: সংগৃহীত
After the July revolution, Bangladesh Jamaat-e-Islami has intensified its diplomatic outreach, holding talks with diplomats from over 40 countries as it prepares for a potential return to power.

স্বৈরাচার পতনের পর নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠনের কৌশলে এগোচ্ছে। গত ১৫ বছর আওয়ামী সরকারের কঠোর দমননীতি ও রাজনৈতিক রোষানলে পড়া এই দলটি জুলাই বিপ্লবের পর আবারও শক্তভাবে সংগঠিত হতে শুরু করেছে। জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও দলটির কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। এমনকি আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনরায় পেলে সরকার গঠনের মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছে জামায়াত।

এই প্রেক্ষাপটে দলটি একাধিক দেশে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ঢাকায় নিয়োজিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক ও মতবিনিময় করছে তারা। কেবল রাজধানীতেই নয়, বিদেশ সফরেও তারা নিজেদের অবস্থান, রাজনৈতিক নীতি, কার্যক্রম এবং আওয়ামী শাসনামলে সংঘটিত নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের উপস্থিতি জানান দেয়।

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব কার্যালয় পুনরায় চালু হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংস্কার শেষে সেপ্টেম্বরে তা নতুনভাবে উদ্বোধন করা হয়। এর পরপরই সেখানে বিদেশি কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বৈঠক হয়। এরপর একের পর এক বিদেশি কূটনীতিক জামায়াত কার্যালয়ে আসতে থাকেন।

শুধু কার্যালয়ে বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকছে না দলটি। কূটনীতিকদের বাসভবন ও দূতাবাসে গিয়েও জামায়াত নেতারা মতবিনিময় করছেন। তারা বিভিন্ন দেশের আয়োজিত অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন। একইসঙ্গে বিদেশ সফরের মাধ্যমেও কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, কানাডা, ফ্রান্স, তুরস্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড ও ব্রাজিলসহ ৪০টির বেশি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে জামায়াত। যদিও এখন পর্যন্ত ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।

সম্প্রতি ব্রাজিল ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জামায়াত আমিরের সঙ্গে বসুন্ধরায় আলাদা বৈঠক করেছেন। সেপ্টেম্বরে প্রায় ১৪টি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে দলটির বৈঠক হয়। চলতি মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত আরও বেশ কিছু বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। একইসঙ্গে এই মাসের শেষের দিকে আমেরিকা ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জামায়াত নেতারা।

দলীয় সূত্র জানায়, এসব বৈঠকে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি-কৌশল, দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নারী নেতৃত্ব, সংখ্যালঘু অধিকার ও জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থানের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতেও। কূটনীতিকরা এসব বিষয়ে জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, আর জামায়াত নেতারাও বিস্তারিতভাবে তাদের অবস্থান তুলে ধরছেন।

জুলাই বিপ্লবের পর চীনা সরকারের আমন্ত্রণে জামায়াত প্রতিনিধিরা দুই দফায় চীন সফর করেছেন। সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমন্ত্রণে জামায়াতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ব্রাসেলসসহ কয়েকটি দেশ সফর করে। সেই সফরে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গেও নিয়মিত মতবিনিময় করছে জামায়াত।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার জন্য ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সেক্রেটারি নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। কমিটিতে শীর্ষ ১০ জন নেতা রয়েছেন। এছাড়া দলের বাইরের একজন বিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদুল হাসান পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হলেও জামায়াত জানিয়েছে, তারা ভারতকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং আমন্ত্রণ পেলে সম্পর্ক গড়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। নিকট প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলেও তারা মনে করে।

রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে জামায়াত নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। দুর্যোগে তারা মাঠে কাজ করছে, ইতিবাচক রাজনীতির ধারা আনতে চাইছে। তাদের ধারণা, এর ইতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়বে।

বিদেশে জামায়াতের কোনো আনুষ্ঠানিক শাখা নেই, তবে ইউরোপে ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ড. নাকীবুর রহমান মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রবাসে অবস্থানরত শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাবেক নেতাকর্মীরা স্থানীয় পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator