গাজাগামী ‘মানবতার’ ফ্লোটিলা ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

গাজাগামী ‘মানবতার’ ফ্লোটিলা ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
গাজাগামী ‘মানবতার’ ফ্লোটিলা ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা..
গাজাগামী ‘মানবতার’ ফ্লোটিলা ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা..
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক জাহাজগুলোর যাত্রীদের কারাগারে পাঠানো হতে পারে বলে প্যারিসের সাইন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ওমরশার্টস জানিয়েছেন।..

ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজায় জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর লক্ষ্যে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র অধিকাংশ জাহাজ আটক করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তীব্র মানবিক সংকটের মুখে জরুরি খাদ্য, সুপেয় পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী জাহাজ বহরের অধিকাংশ জাহাজকে আটক করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। মানবতার বার্তা বহনকারী এই জাহাজগুলোর যাত্রীরা, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরাও ছিলেন, বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ালেও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির কাছে তাদের যাত্রা থমকে গেল। নেতানিয়াহু সরকারের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

দোহা অক্টোবর এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজামুখী ৪৪টি বেসামরিক জাহাজের মধ্যে একটি ছাড়া প্রায় ৪৩টি জাহাজই ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে চলে গেছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ জাহাজগুলো গাজা উপত্যকায় প্রবেশে সফল হতে পারেনি। তবে, তারা দাবি করেছে, জাহাজের সকল যাত্রী নিরাপদ ও সুস্থ আছেন এবং তাদেরকে নিরাপদে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে। বাকি একটি জাহাজ প্রসঙ্গে ইসরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি সেটি গাজায় প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সেটিকেও আটক করা হবে।

অন্যদিকে, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ‘মাইকেনো’ নামের সেই জাহাজটি এখনও গাজা উপত্যকার দিকে ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে ট্র্যাকিং সিস্টেমে দেখা যাচ্ছে। জাহাজটি বর্তমানে গাজা থেকে কয়েক নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক জাহাজগুলোর যাত্রীদের কারাগারে পাঠানো হতে পারে বলে প্যারিসের সাইন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ওমরশার্টস জানিয়েছেন। তার মতে, এত মানুষকে একসাথে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয় বলে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কেজিও কারাগারে তাদের রাখা হতে পারে।

গাজামুখী এই ‘মানবতার’ ফ্লোটিলা আটকের ঘটনা ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো কতটা কঠিন এবং আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েল তার কঠোর অবরোধ নীতিতে কতটা অটল।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator