গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। ৪৪টি দেশের ৫৫টি জাহাজ নিয়ে গঠিত এই ঐতিহাসিক বহরে তিনি একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। মানবিক সহায়তার বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, শিল্পী, মানবাধিকার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এতে যোগ দিয়েছেন।
শহিদুল আলম ফ্লোটিলা থেকে একটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে দেখা যায়, তিনি লাল-সবুজ পতাকা হাতে উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর পরনে রয়েছে শহীদ আবু সাঈদের ছবিযুক্ত একটি টি-শার্ট। এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন ও সংহতির শক্ত প্রতীক।
মানবিক সহায়তার বহরটিতে রয়েছে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী। যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজার মানুষদের কাছে এই সাহায্য পৌঁছে দেওয়াই অংশগ্রহণকারীদের প্রধান লক্ষ্য। তবে শুধু সহায়তা নয়, এই বহরকে মানবতার আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে ইসরায়েলি নৌবাহিনী এই ফ্লোটিলাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত নৌবহরটি গাজার উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের মুখপাত্র ওয়ায়েল নাওয়ার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, অবরোধ ভেঙে গাজার মানুষের হাতে সরাসরি সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা যুক্ত হয়েছেন এই অভিযানে। তাদের উদ্দেশ্য কেবল ত্রাণ পৌঁছানো নয়, বরং বিশ্ব নেতাদের নীরব বিবেককে জাগ্রত করা এবং ফিলিস্তিনের প্রতি বিশ্বমানবতার দায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা কেবল একটি ত্রাণবাহী নৌবহর নয়; এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বৈশ্বিক আহ্বান এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার দৃঢ় ঘোষণা। মানবতার এই যাত্রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ফ্লোটিলাটি গাজার উপকূলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখনই স্পষ্ট হবে—এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনিদের জীবনে কতটা স্বস্তি ও আশা নিয়ে আসে। তবে ইতোমধ্যেই এই বহর বিশ্বজুড়ে মানবতার জয়গান গেয়ে যাচ্ছে।