এনসিপি নেতা অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন অভিযোগ করেছেন, শাপলা প্রতীক বরাদ্দে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্ব করছে এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখছে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও যুগ্ম আহ্বায়ক, বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, শাপলা প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে পটুয়াখালীর বাউফলে এনসিপির উপজেলা কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। শাহীন বলেন, “শাপলা এককভাবে জাতীয় প্রতীক নয়। আমাদের জাতীয় প্রতীকে পাটপাতা, ধানের শীষ ও ভাসমান শাপলার সমন্বয় রয়েছে। আমরা শুধু শাপলা ফুলকে আমাদের দলীয় প্রতীক হিসেবে চেয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা দিতে গড়িমসি করছে এবং নানা অজুহাত দেখিয়ে পক্ষপাতিত্ব করছে।”
তিনি উদাহরণ টেনে আরও বলেন, “জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এগুলোও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, যা একইসাথে উচ্চ আদালতের প্রতীক হিসেবেও বিদ্যমান। তবুও তাদের প্রতীক বরাদ্দে কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। অথচ এনসিপির প্রতীক হিসেবে শাপলা চাওয়ায় নির্বাচন কমিশন নানা যুক্তি তুলে ধরছে, যা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”
শাহীন অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের আচরণ ভোটারদের আস্থাকে নষ্ট করছে। তিনি বলেন, “একটি সংবিধানসম্মত নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ করা। কিন্তু আমাদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা পক্ষপাতিত্ব ছাড়া আর কিছু নয়।”
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শাহীন বলেন, “এনসিপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। এই দল কোনো ব্যক্তির স্বার্থে কাজ করে না, বরং জনগণের দুঃখ-কষ্ট ও প্রত্যাশাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিফলিত করে। আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে এনসিপিকে তাদের দল হিসেবে প্রমাণ করবে।”
এ সময় এনসিপির অন্যান্য নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও পটুয়াখালী জেলার প্রধান সমন্বয়কারী ইসলাম, জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী বশির উদ্দিনসহ আরও অনেকে। বক্তারা সকলেই একসুরে দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে এবং শাপলা প্রতীক এনসিপির প্রাপ্য হিসেবেই স্বীকৃতি দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও জানান, প্রতীক নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে কোনো রাজনৈতিক দলের অগ্রযাত্রা থামানো সম্ভব নয়। জনগণই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবে কারা দেশের নেতৃত্ব দেবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, জনগণ আসন্ন নির্বাচনে এনসিপির পক্ষে রায় দিয়ে প্রমাণ করবে যে এই দলই প্রকৃত অর্থে তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির এই অভিযোগ নির্বাচনী পরিবেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেননা, প্রতীক বরাদ্দ কোনো দলের জন্য শুধু একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, বরং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ক্ষেত্রে যদি কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করে থাকে, তবে তা সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
জনগণ এখন তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশনের দিকে—তারা কি সত্যিই নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেবে, নাকি রাজনৈতিক চাপ ও স্বার্থে বাঁধা পড়বে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।