নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি প্রথমবার জনসম্মুখে এসে ঘোষণা করেছেন—তিনি দেশ ছেড়ে পালাবেন না। বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ ও বাসভবনে হামলার পরও অলি জানিয়েছেন, তিনি জনগণের ম্যান্ডেট ফিরিয়ে আনবেন।
নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের সরব হয়ে উঠলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। জেন-জি বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের পর থেকে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। তবে শনিবার প্রথমবার জনসম্মুখে এসে অলি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন না এবং জনগণের হাতে আবারও সাংবিধানিক গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন।
রবিবার দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার ভক্তপুরে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) যুব সংগঠনের এক সভায় যোগ দেন অলি। সেখানে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কি মনে করেন আমরা এই ভিত্তিহীন সরকারের হাতে দেশ তুলে দিয়ে পালিয়ে যাব? কোনোভাবেই নয়। আমরা দেশকে শান্তি ও সুশাসনের পথে ফিরিয়ে আনব।”
অলি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটে ক্ষমতায় আসেনি; বরং সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে। তিনি বলেন, “সুশীলা কারকির সরকারের সময় আমি প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে কী নির্দেশ দিয়েছিলাম, সেটি সাহস থাকলে প্রকাশ করুন। আজ সামাজিক মাধ্যমে আমার নতুন বাসায় হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ সরকার শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর পাসপোর্ট স্থগিত করার চেষ্টা করছে, মামলা সাজাচ্ছে এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সরকার দেশকে এক অজানা অনিরাপত্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কাঠমান্ডু পোস্ট আরও জানায়, বিক্ষোভকারীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন কেপি শর্মা অলি। গত ৯ সেপ্টেম্বর ভক্তপুরে তাঁর ব্যক্তিগত বাড়িতে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন থেকে তিনি সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ছিলেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় উঠেন তিনি।
এসময় অলি আশ্বস্ত করেন, কোনো ভয় বা ষড়যন্ত্র তাঁকে জনগণের সেবা থেকে বিরত করতে পারবে না। বরং তিনি সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধারের জন্য জনগণের সঙ্গে থেকে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর এই ঘোষণা নতুন করে নেপালের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে।