আ.লীগ কর্মীকে বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র! | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আ.লীগ কর্মীকে বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র!

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আ.লীগ কর্মীকে বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র!
আ.লীগ কর্মীকে বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র!
ছবি: সংগৃহীত
In Savar’s Shimulia, BNP activists expressed outrage after Awami League leader Asaduzzaman was given a BNP membership certificate. Local leaders fear such actions will damage the party’s reputation...

সাভারের শিমুলিয়ায় চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামানকে বিএনপি কর্মীর প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ করেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এক অভাবনীয় ঘটনা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও চিহ্নিত কর্মী আসাদুজ্জামানকে বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ উঠেছে সরাসরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কবিরপুরের বাইদগাঁও এলাকার মৃত আফসার উদ্দিনের ছেলে আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। স্থানীয়ভাবে ক্ষমতার দাপটে তিনি বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জমি দখল, চাঁদাবাজি ও জুট ব্যবসার নামে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথাও এলাকাবাসীর মুখে শোনা যায়। এ অবস্থায় তাকে হঠাৎ বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৫ আগস্টের পর অনেক আওয়ামী লীগ নেতা পালিয়ে গেলেও আসাদুজ্জামানের মতো অনেকে এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। এমন সময়ে সাধারণ বিএনপি সমর্থকরাও দেশে টিকে থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অথচ আমরা যদি চিহ্নিত আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রত্যয়নপত্র দিয়ে পুনর্বাসন করি, তার পরিণতি ভোগ করতে হবে সাধারণ নেতাকর্মীদের। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আশা করি দলের হাইকমান্ড তদন্ত করে দেখবেন।”

একই অভিযোগ তুলেছেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান খান মিন্টু। তিনি বলেন, “আমরা সবাই জানি আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন পরিচিত মুখ। কিন্তু কিভাবে তিনি বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র পেলেন, তা আমাদের কাছে রহস্যজনক।”

এ বিষয়ে শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা মনে করছেন, এটি শুধু সাধারণ নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দেবে না, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেও সুযোগ করে দেবে।

তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যে, এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনাই দলের সাংগঠনিক শক্তিকে ভাঙনের দিকে ঠেলে দেবে এবং মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের আস্থার সংকট তৈরি করবে।

এই ঘটনার জেরে শিমুলিয়া ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তুলছেন—এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাতে যদি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র যায়, তবে ভবিষ্যতে জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় দাঁড়াবে?

বর্তমানে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, দলের স্বার্থ রক্ষায় তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। না হলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে দীর্ঘমেয়াদে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator