কটিয়াদীতে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট শুরু, শারদীয় পূজাকে ঘিরে মিলনমেলা
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শুরু হয়েছে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট, যা শারদীয় দুর্গাপূজার পূর্বাভাস হিসেবে প্রতিবছর বসানো হয়। হাটটি ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
ঢাকের হাটে দেশব্যাপী বিভিন্ন অঞ্চলের বাদকরা অংশ নিচ্ছেন। এখানে ঢাক, ঢোল, সানাই, বাঁশি, খঞ্জরি সহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র পরিবেশিত হচ্ছে। তবে বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হয় না; বাদকরা পূজার আয়োজনকারীদের সঙ্গে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বাজনা বাজান।
ঐতিহাসিকভাবে, ঢাকের হাটের সূচনা হয় ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি, রাজা নবরঙ্গ রায়ের আমলে। পরে এটি কটিয়াদীর পুরান বাজারে স্থানান্তরিত হয়। শতাব্দী প্রাচীন এই হাট শুধুমাত্র বাদ্যযন্ত্রের প্রদর্শনী নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি অমূল্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এখানে মানুষ মিলিত হয়, যা হাটকে একটি সাম্প্রদায়িক মিলনমেলা হিসেবে গড়ে তুলেছে।
শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈদুল ইসলাম ঢাকের হাট পরিদর্শন করেন। এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা লাবনী আক্তার তারানা। তারা হাটের পরিবেশ, বাদকদের কার্যক্রম এবং হাটে আসা দর্শনার্থীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে হাটের গুরুত্ব ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনের সময় তারা দুটি পূজা মণ্ডপও ঘুরে দেখেন।
ঢাকের হাট কেবল পূজার আয়োজনকে বর্ণিল করে তোলে না, এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক অপরিসীম উৎসব। এখানে বাঙালি সংস্কৃতির ছোঁয়া, সংগীত ও সমবায় চেতনা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। ৫০০ বছরের এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মকেও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে ঢাকের হাট সমাজের সব স্তরের মানুষকে একত্রিত করে, যা প্রমাণ করে, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি কেবল অতীত নয়, এটি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতকেও
সমৃদ্ধ করে।