ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, চোরের বদলে চোর বা ডাকাতের বদলে ডাকাতকে ক্ষমতায় বসালে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন হবে না।
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ আজ চোর-ডাকাতের শাসন দেখে ক্লান্ত। চোরের জায়গায় আবার চোরকে, আর ডাকাতের জায়গায় ডাকাতকে বসালে রাষ্ট্র বা জনগণের ভাগ্য কোনোদিনই পরিবর্তন হবে না। তাই শুধু নেতার পরিবর্তন নয়, প্রকৃত নীতির পরিবর্তন প্রয়োজন।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরে সালথা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফয়জুল করীম স্পষ্ট করে বলেন, প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে ইসলামী শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার না থাকলে রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানও যেন অস্তিত্ব হারায়। প্রধান বিচারপতি, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স প্রধান, এনএসআই প্রধান, পুলিশের আইজি এমনকি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইমামকেও সরকারের অনুগত না হলে টিকতে দেওয়া হয় না। তিনি প্রশ্ন করেন, “একে কি রাষ্ট্র বলা যায়? রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া। রাষ্ট্রের একটি কুকুরও যদি না খেয়ে মারা যায়, তবে সরকারের জবাবদিহি থাকতে হবে। সেটিই প্রকৃত রাষ্ট্র।”
অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ফয়জুল করীম বলেন, “আমরা বহু দলের শাসন দেখেছি। আওয়ামী লীগ-বিএনপির শাসন দেখেছি। আইয়ুব খান, শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানের শাসনও দেখেছি। কিন্তু জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে এক দল চাঁদাবাজি করত, এখন আরেক দল করছে। আগে এক দল ধর্ষণ করত, এখন আরেক দল করছে। হাতের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি।”
তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নির্বাচন কমিশন যদি বলে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি সংবিধানে নেই, তবে কমিশন নিজেই কীভাবে সংবিধানে টিকে আছে সেটিই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, “সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, সরকার পরিবর্তনের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ঠিক হবে, তারপর তিনি কমিশন নিয়োগ দেবেন। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে তিন মাস পেরোনোর পর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই তাদের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।”
বাংলাদেশের আদালত ও বিচার বিভাগের সমালোচনা করে ফয়জুল করীম আরও বলেন, “আজকের আদালত আর আদালত নেই। যে দল ক্ষমতায় আসে, বিচারকের রায়ও তার দিকেই ঝুঁকে পড়ে। এটা বিচার হতে পারে না। সরকারি দলের সঙ্গে থাকলে হাজারো অপরাধ করেও খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়ানো যায়। কিন্তু বিরোধী দলে থাকলে নির্দোষ হয়েও জেলখানায় ধুঁকে ধুঁকে মরতে হয়। এ বিচার জনগণ মেনে নেয় না।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হাফেজ মুহাম্মাদ মোস্তফা কামাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মোস্তফা কামাল ফরিদপুরী, শাকপালদিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা লিয়াকত আলী এবং উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল ফজল মুরাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো ইসলামী নীতি-আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা। তারা দাবি করেন, এভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করে চোর-ডাকাতদের পালাবদল করলে দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। জনগণের অধিকার রক্ষায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই একমাত্র বিকল্প হতে পারে।