২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫:
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ নারান্দিয়া গ্রামে,গোমতী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত মোল্লা মার্কেটে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আনুমানিক ১২টা থেকে ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫টি দোকান ও একটি অফিস সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুনের সূত্রপাত হয় একটি দোকান থেকে, যেখানে দোকানদার তখন দোকানের ভিতরেই অবস্থান করছিলেন। দোকানে থাকা একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে বেরিয়ে আসে, তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো সিলিন্ডার বিস্ফোরণ (ব্লাস্ট) ঘটেনি। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এক ইউপি সদস্য বলেন,
“আল্লাহ আমাদেরকে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা থেকে রক্ষা করেছেন। দোকানের ভিতরে অনেকগুলো গ্যাস সিলিন্ডার ছিল—সেগুলো থেকে গ্যাস লিক হলেও বিস্ফোরণ ঘটেনি। যদি সবগুলো বিস্ফোরিত হতো, তাহলে ঘটতে পারতো ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা।”
তিনি আরও বলেন,
“স্থানীয় যুবসমাজ ও এলাকাবাসী যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে, তাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হয়েছে। সবাই মিলে সাহসিকতার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।"
অগ্নিকাণ্ডের সময় স্থানীয় যুবসমাজ ও এলাকাবাসী অক্লান্ত পরিশ্রমে আশেপাশের বাড়ি ও দোকানগুলো রক্ষা হয়।
তারা বালতি, বালু, পানি ও অগ্নিনির্বাপক উপকরণ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হয়েছে,এবং আশেপাশের দোকান ও বসতবাড়ি রক্ষা পেয়েছে।
ইতিমধ্যেই নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি বিস্তারিত তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।
যার স্মারক নাম্বার :৪৭১/২৫-২৬
ওয়ার্ড: ৪নং, এলাকা: নারান্দিয়া পশ্চিমপাড়, মোল্লা মার্কেট
১ | রিয়াজ পিতা:মোফাজ্জল, মুদি দোকান, ক্ষতির পরিমাণ ৩,১০,০০০/টাকা
২ | নুরুল ইসলাম পিতা:জয়নাল, হোটেল, ক্ষতির পরিমাণ ৪৫,০০০/টাকা
৩ | নূরুল হক পিতা:জলিল বেপারী, চায়ের দোকান,ক্ষতির পরিমান ৩৫,০০০/টাকা
৪ |মোঃ নুরুজ্জামান পিতা:মোঃ হানিফ,মোবাইল সার্ভিসিং,ক্ষতির পরিমাণ ৩,০০,০০০/টাকা
৫ | মোহাম্মদ ইসলাম জহিরুল, পিতা:মোঃ আলী নেওয়াজ, ফার্মেসি, ক্ষতির পরিমাণ ৩০,০০০/টাকা
৬ | মাছুম মোল্লা পিতা:আঃ ছালাম মোল্লা, মার্কেট মালিক, অফিস, ক্ষতির পরিমাণ ৩,৫০,০০০/টাকা
বাংলাদেশে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য রয়েছে স্পষ্ট বিধিমালা:
🔹গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা, ১৯৯১
🔹এলপিজি বিধিমালা, ২০০৪
🔹বিস্ফোরক বিধিমালা, ২০০৪
এই বিধিমালাগুলো অনুযায়ী
✅ লাইসেন্স ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ
✅ দোকানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক
✅ সিলিন্ডার নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হয়
এই ঘটনা শুধু নারান্দিয়া ইউনিয়ন পশ্চিম পার নয়,সারা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে একই চিত্র।
প্রতিটি হাট-বাজারে, মুদি দোকানে এমনকি চায়ের দোকানেও লাইসেন্সবিহীনভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসব অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি পুনর্বাসন তহবিল বরাদ্দ,বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ তদন্ত ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান।