নেত্রকোনার বারহাট্টায় প্রতিবাদ সমাবেশে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী কোরআন অবমাননার ঘটনায় দায়ীদের তওবা ও তৌহিদি জনতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসলামবিরোধী অবস্থান নিলে সরকারকেও মসনদ ছাড়তে বাধ্য করা হবে।
নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টার চন্দ্রপুর বাজারে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দেন আলোচিত বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি কোরআন অবমাননার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের প্রকাশ্যে তওবা করার দাবি জানান। একইসাথে তৌহিদি জনতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান।
তিনি সমাবেশ থেকে সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক মাঠের প্লেয়ার, আমাদের আঞ্চলিক প্লেয়ার বানাবেন না।” রফিকুল ইসলাম স্পষ্ট করে জানান, তাদের দাবি অবহেলা করা হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
মাদানী আরও বলেন, “কোরআন অবমাননাকারীদের যারা প্রশ্রয় দেবে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। ইসলামবিরোধী অবস্থানের কারণে হাসিনার মসনদ কাঁপিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছি। বর্তমান সরকারও যদি একই পথে হাঁটে, তবে তার মসনদও আমরা নাড়িয়ে দেব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুফতি তাহের কাসেমী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়জী। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুফতি রিজওয়ান রফিকী, মুফতি আরিফ জব্বার কাসেমী, মুফতি সালমান ফারসী, মুফতি আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও বিপুলসংখ্যক জনতা।
মুফতি তাহের কাসেমী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানান, দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রাথমিকভাবে দুই দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে ধাপে ধাপে সাত দফা কর্মসূচি মাঠে গড়াবে।
ঘোষিত সাত দফা কর্মসূচি হলো—
১. ২৫ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও বারহাট্টা উপজেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান।
২. ২ অক্টোবর নেত্রকোনায় জরুরি বৈঠক।
৩. ৪ অক্টোবর নেত্রকোনা জেলায় সাংবাদিক সম্মেলন।
৪. ৮ অক্টোবর বারহাট্টায় মানববন্ধন।
৫. ১৩ অক্টোবর বারহাট্টায় বিক্ষোভ মিছিল।
৬. ১৯ অক্টোবর বারহাট্টায় পূর্ণ অবরোধ।
৭. ২ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, কোরআন অবমাননা একটি গুরুতর অপরাধ, যা মুসলিম সমাজ কখনো মেনে নেবে না। এ ধরনের অপরাধের শাস্তি যেমন হওয়া উচিত, তেমনিভাবেই দায়ীদের তওবা ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই রাতে নেত্রকোনার চন্দ্রপুর গেইরা বাজার এলাকায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হলে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। পরবর্তীতে তৌহিদি জনতা বিক্ষোভ মিছিল করে এবং অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে তৌহিদি জনতার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়।
সমাবেশে বক্তারা এসব মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “কোরআন অবমাননার বিচার না করে যারা আল্লাহর দীন রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তাদেরকে দায় নিতে হবে।”
রফিকুল ইসলাম মাদানী ও অন্যান্য উলামায়ে কেরাম স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, তাদের দাবি না মানা হলে নেত্রকোনা থেকে শুরু করে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। আর এ আন্দোলন ইসলামবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তৈরি করবে।