“ফিলিস্তিনের নিরপরাধ শিশু ও নারীর রক্ত—নীরব থাকা কি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থ্য?”.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

“ফিলিস্তিনের নিরপরাধ শিশু ও নারীর রক্ত—নীরব থাকা কি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থ্য?”..

Eng. Nurullah Al Mamun avatar   
Eng. Nurullah Al Mamun
“ফিলিস্তিনের নিরপরাধ শিশু ও নারীর রক্ত—নীরব থাকা কি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থ্য?”..
“ফিলিস্তিনের নিরপরাধ শিশু ও নারীর রক্ত—নীরব থাকা কি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থ্য?”..
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের গাজার শিশু, নারী ও নিরপরাধ মানুষদের উপর সংঘটিত নৃশংসতার মধ্যে আমরা নীরব থাকছি। শুধু নামাজ পড়া যথেষ্ট নয়—নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহর কাছে আমাদের সত্যিকারের দায়িত্ব।..
মোঃ নুরুল্লাহ  
(অভয়নগর, যশোর) প্রতিনিধি )

আজ আমরা নিরাপদ ঘরে বসে ঘুমাচ্ছি, হাসি-খেলা করছি, খাবার খাচ্ছি এবং নামাজ পড়ছি। কিন্তু শুধু নামাজ পড়া কি যথেষ্ট? ইসলাম শুধু নামাজ পড়ার জন্য বলেনি। আমাদের দায়িত্ব হলো নিরপরাধদের রক্ষা করা, দুর্বল ও নিঃশব্দ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

কিন্তু আমাদের চোখের সামনেই ফিলিস্তিনের গাজার শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষ হত্যা হচ্ছে। তাদের বসতবাড়ি ধ্বংস করা হচ্ছে, নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে, আর আমরা কেবল চুপচাপ বসে থাকি। আমাদের জন্য কি আল্লাহর কাছে জবাবদিহি কমে যাবে?

নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন:

“যে কোনো অন্যায় দেখে এবং তাকে থামাতে পারে কিন্তু থামায় না, সে একই অপরাধে অংশীদার।”
(সহিহ তিরমিজি, হাদিস নং ১৩৪১)
মর্ম: সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি মানুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে কিছু না করে, তখন সে দায়ী।

“যে ব্যক্তি একজন নিরপরাধ মানুষকে রক্ষা করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে রাখবেন।”
(সাহিহ বুখারি)

আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে:

“দরিদ্র, অসহায় ও অনাথদের প্রতি দয়া করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।”
(সহিহ মুসলিম)

ফিলিস্তিনের গাজার নিরপরাধ মানুষদের রক্ত আমাদের চোখের সামনে ঝরে যাচ্ছে, আর আমরা নিজেদের স্বার্থে নিরাপদ থাকার ব্যস্ততায় লিপ্ত। শুধু নামাজ পড়লে আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাতে রাখবেন, কিন্তু যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না, যারা সাহায্য করবে না—তাদের দায় কমবে না।

আমাদের সকলের দায়িত্ব হলো—নিরপরাধ শিশু, নারী এবং সাধারণ মানুষদের রক্ষা করা। তাদের জন্য সচেতন থাকা, সাহায্য করা, সামাজিকভাবে কণ্ঠস্বর ওঠানো। আমরা যদি এগুলো না করি, আল্লাহর কাছে আমাদের জবাব কঠিন হবে।

  • নামাজ পড়া যথেষ্ট নয়, কাজকর্মও গুরুত্বপূর্ণ।

  • নিরপরাধ শিশু ও নারীর পাশে দাঁড়ান।

  • অন্যায় ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতন হোন।

  • আল্লাহর কাছে দায়িত্বশীল হোন।

ফিলিস্তিনের গাজার শিশু ও নারীদের রক্ত আমাদের হৃদয় স্পর্শ করা উচিত। আমরা কেবল নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থে ব্যস্ত থাকলে, আল্লাহর কাছে দায় কমবে না। আমাদেরকে সকলে একত্রে সচেতন হতে হবে, সাহায্য করতে হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

যাদের সামর্থ্য আছে, তারা গাজার নিরপরাধ মানুষের পাশে দাঁড়ান। যারা সাহায্য করার সামর্থ্য রাখে, তারা প্রতিদিন নামাজের পরে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করুন। প্রতিটি মসজিদে জুম্মার খুতবায় সচেতন বার্তা দিন এবং নামাজ শেষে তাদের জন্য বিশেষ দোয়া করতে ভুলবেন না।

এটি কেবল গাজার মানুষদের জন্য নয়, সারাবিশ্বের মুসলমানদের জন্যও দায়িত্ব—নিরপরাধ ও দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের যৌথ মানবিক ও ইসলামী দায়িত্ব।

לא נמצאו הערות


News Card Generator