সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিল একটি ব্যতিক্রমী স্যাটায়ারভিত্তিক পেজ—‘আনোয়ার টিভি’। ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে যেমন হাসিয়েছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনারও মুখে পড়েছে এই পেজ। অনেকে বলেছেন, এটি বিনোদনের জন্য স্যাটায়ার; আবার অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মূলধারার একটি গণমাধ্যমের নাম ও লোগো নকল করে বিভ্রান্তি ছড়ানো মোটেও দায়িত্বশীল কাজ নয়।
এই বিতর্কিত পেজটির অ্যাডমিন মাজেদ আহমেদ সম্প্রতি প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছেন গণমাধ্যমের। সময়ের গল্প এবং সময় এন্টারটেইনমেন্টের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা, অভিযোগ ও সমালোচনার জবাব।
মাজেদ আহমেদ বলেন, ‘আনোয়ার টিভি কখনোই মূলধারার সাংবাদিকতার জায়গায় দাঁড়ায়নি। এটা কেবলই মজা আর স্যাটায়ার ছিল। কিন্তু অনেকেই ভুল বুঝেছেন। সত্যিকারের সংবাদ আর মজার কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য না করায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।’
তবে পেজটিকে ঘিরে বিতর্ক শুধু কনটেন্টেই থেমে থাকেনি। কয়েক সপ্তাহ আগে ‘আনোয়ার টিভি’ হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। এর পর থেকে ফেসবুকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না এই জনপ্রিয় পেজটি। অ্যাডমিনের দাবি, ‘ভারতীয় মেটার কিছু এজেন্ট ইচ্ছাকৃতভাবে এটি হ্যাক করেছে। এর পেছনে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করা উচিত।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যখনই পেজটি আলোচনার শীর্ষে উঠেছিল এবং লাখো ফলোয়ার কনটেন্টের সাথে যুক্ত হচ্ছিল, তখনই হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি ঘটে। তার মতে, এটি এক ধরনের ষড়যন্ত্র, যা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে শুধু অভিযোগ নয়, নিজের প্রতি আসা সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন মাজেদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সমালোচনা হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি কাউকে বিভ্রান্ত করার জন্য কনটেন্ট করিনি। বরং মানুষকে হাসানোর চেষ্টা করেছি। আসল সংবাদ আর স্যাটায়ার পোস্ট এক করার দায় আমার নয়, এটা দর্শকদের বোঝার দায়িত্ব।’
এই সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হবে আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭টায়। দর্শকরা সময়ের গল্প ও সময় এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেল থেকে পুরো আলাপচারিতা দেখতে পারবেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিনোদন প্রতিবেদক তানভীর হাসান।
মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আসবে, যা ‘আনোয়ার টিভি’কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও একবার নতুন করে আলোচনায় তুলবে। একই সঙ্গে অ্যাডমিনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্কও ছড়াতে পারে।
ফলে যারা এতদিন কেবল গুজব ও অর্ধসত্য শুনেছেন, তারা প্রথমবারের মতো আনোয়ার টিভির অ্যাডমিনের মুখ থেকে প্রত্যক্ষভাবে জানতে পারবেন পুরো গল্প।