কনসার্টে আবেগঘন ঘোষণা, সংগীতকে বিদায় জানাচ্ছেন তাহসান | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কনসার্টে আবেগঘন ঘোষণা, সংগীতকে বিদায় জানাচ্ছেন তাহসান

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
কনসার্টে আবেগঘন ঘোষণা, সংগীতকে বিদায় জানাচ্ছেন তাহসান
কনসার্টে আবেগঘন ঘোষণা, সংগীতকে বিদায় জানাচ্ছেন তাহসান
ছবি: সংগৃহীত
Popular Bangladeshi singer Tahsan Khan, after over two decades in music, hinted at retirement during a concert in Australia. In an emotional announcement, he told fans that he is slowly stepping away ..

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে এক অনন্য নাম তাহসান খান। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তার কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছেন কোটি ভক্ত। ভিন্ন ধারার গান, আবেগঘন কথা আর অনন্য পরিবেশনার জন্য অগণিত শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তবে এবার ভক্তদের মন খারাপের খবর দিলেন এই জনপ্রিয় তারকা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার এক কনসার্টে হাজারো দর্শকের সামনে তিনি জানালেন, ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছেন সংগীত থেকে।

অস্ট্রেলিয়ায় সফররত অবস্থায় এক বিশেষ কনসার্টে গান গাওয়ার পর ভক্তদের উদ্দেশে তাহসান বলেন, “এটাই আমার শেষ কনসার্ট। আস্তে আস্তে মিউজিক ক্যারিয়ারটাও গুটিয়ে ফেলবো।” কথাগুলো বলার সময় আবেগে কেঁপে উঠছিল তার কণ্ঠ। তিনি আরও যোগ করেন, “মেয়ে বড় হচ্ছে। এখন কি দাঁড়ি রেখে স্টেজে দাঁড়িয়ে লাফালাফি করতে ভালো লাগে?”

তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে। অনেকেই ভেবেছিলেন, এটি হয়তো কেবল সাময়িক আবেগ। কিন্তু এরপরই জানা যায়, তাহসান ইতোমধ্যে তার সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিএক্টিভেট করেছেন। খোঁজাখুঁজির পরও পাওয়া যায়নি তার ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল। যদিও সরাসরি ‘অবসর’ শব্দটি তিনি ব্যবহার করেননি, তবে ভক্তদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে—আগের মতো নিয়মিত আর দেখা যাবে না প্রিয় শিল্পীকে।

২০০৪ সালে প্রকাশিত ‘কিছু কথা’ অ্যালবামের মধ্য দিয়ে এককভাবে সংগীতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তাহসান। তবে তার সংগীতযাত্রা শুরু আরও আগে, ১৯৯৮ সালে গড়ে তোলা ব্যান্ডদল ‘ব্ল্যাক’-এর মাধ্যমে। ব্যান্ডের হয়ে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেন তিনি, যা তখনকার তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।

২০১২ সালে তিনি নিজেই গড়ে তোলেন নতুন ব্যান্ড ‘তাহসান অ্যান্ড দ্য সুফিজ’। সেই ব্যান্ডের মাধ্যমেও তিনি ভক্তদের উপহার দেন একের পর এক স্মরণীয় গান। পাশাপাশি গড়ে তোলেন নিজস্ব স্টুডিও ‘কৃত্যদাসের আবাসে’। এখান থেকেই জন্ম নেয় তার বহু প্রিয় গান।

ভক্তদের মনে অমলিন হয়ে আছে তার অসংখ্য হিট গান—‘চোখে চোখে কথা হতো’, ‘যদি কোনোদিন’, ‘চলে যাও তবে’, ‘আলো’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘কতদূর’, ‘প্রেম তুমি’। প্রতিটি গানই প্রেম, আবেগ আর ভালোবাসার একেকটি প্রতীক হয়ে আছে শ্রোতাদের হৃদয়ে।

সংগীতের পাশাপাশি তাহসান অভিনয় ও টেলিভিশন শোতেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। কিন্তু গানের প্রতি তার ভালোবাসাই তাকে এনে দিয়েছে অগণিত অনুরাগীর ভালোবাসা ও সম্মান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ভক্তদের সঙ্গে তার যে অটুট বন্ধন গড়ে উঠেছিল, তা ভাঙা সহজ নয়। তাই অনেক ভক্তই আশা করছেন, পুরোপুরি না হলেও অন্তত মাঝেমধ্যে তাহসানকে আবারও মঞ্চে দেখা যাবে।

তবে আপাতত এই ঘোষণায় ভক্তরা গভীরভাবে হতাশ ও আবেগাপ্লুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা লিখছেন—“তাহসান ভাই ছাড়া আমাদের প্রজন্মের গান অসম্পূর্ণ থাকবে।” কেউ কেউ আবার মন্তব্য করছেন, “এটি হয়তো সাময়িক বিরতি, ফিরে আসবেন আবার।”

যাই হোক, তার এই ঘোষণায় একটি বিষয় স্পষ্ট—তাহসান হয়তো আর নিয়মিত মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান গাইবেন না। তবুও দুই যুগ ধরে তার কণ্ঠে সৃষ্টি হওয়া স্মৃতি, গান আর আবেগ আগামী প্রজন্মেও বেঁচে থাকবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator