২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও আগ্রহের চিত্র ফুটে উঠেছে এক সাম্প্রতিক জরিপে। গবেষণা সংস্থা ইনোভিশনের পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৮৭ শতাংশ মানুষ আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে ইনোভিশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের ৬৪ জেলার ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করে এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে। এতে মোট ১০ হাজার ৪১৩ জন ভোটারের মতামত নেয়া হয়েছে।
জরিপে উঠে আসে যে, দেশের প্রায় ৯৪.৩ শতাংশ নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। তাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হলে তারা অবশ্যই ভোট দেবেন। এটি প্রমাণ করে, দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়।
তবে ভোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে বলে জরিপে প্রকাশ পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষ পিআর (Proportional Representation) সিস্টেম সম্পর্কে জানেন না। মাত্র ২১.৮ শতাংশ ভোটার পিআর ব্যবস্থা চান, অন্যদিকে ২২.২ শতাংশ ভোটার এ ব্যবস্থাকে সমর্থন করেন না। এ থেকেই বোঝা যায়, জনগণের এক বড় অংশ এখনো নতুন ভোট ব্যবস্থা নিয়ে অবগত নয়।
ইনোভিশনের জরিপে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেয়া ৭৮.৭ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এর মধ্যে ৩৯.৫ শতাংশ বলেছেন সরকার ‘ভালো’ কাজ করছে, আর ৩৯.২ শতাংশ বলেছেন সরকার ‘মোটামুটি ভালো’ করছে।
অন্যদিকে, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগও প্রতিফলিত হয়েছে জরিপে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৬.৬ শতাংশ মনে করেন, গত ছয় মাসে চাঁদাবাজি বেড়েছে। তবে আশাবাদী দিক হলো—প্রায় ৬৯.৯ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, বর্তমান সরকার একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জরিপের ফলাফল প্রমাণ করে জনগণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে নির্বাচন চায় এবং নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভোট সম্পন্ন হওয়াই তাদের প্রধান প্রত্যাশা।