বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয় শুধু শিক্ষাঙ্গনে নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তার মতে, এই নির্বাচনের ফলাফল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নিতে পারে।
শনিবার রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় মজলিশে শুরার অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। দিনব্যাপী এ অধিবেশনে নারী নেত্রীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত নারীদেরও সম্পৃক্ত করতে চাইছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির বিজয় অর্জন করেছে। এ বিজয়ে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। তবে আমরা মনে করি, এই সাফল্য আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়াবে। আমরা আশা করি, যাদের আমরা ভালোবাসি এবং যারা আমাদের ভালোবাসেন, তাদের নিয়েই আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতারা দীর্ঘদিন আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। অনেকে কারাবরণ করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, এমনকি জীবন দিয়েছেন। তাদের সেই ত্যাগ ও কোরবানির ফলেই আজ আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ পেয়েছি। এ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন। আমাদের কর্তব্য হলো দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা, বিনয়ী থাকা এবং জনগণের প্রকৃত সেবক হয়ে ওঠা।”
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় ঘোরানো অধ্যায়। তিনি বলেন, “সে আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন, অনেকে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন। আল্লাহর কৃপায় সেই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ৫ আগস্ট একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আমাদের সবার ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই বিজয় এসেছে। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং অহংকার না করে বিনয়ী হওয়া।”
এছাড়া জামায়াত আমির দোয়া করে বলেন, “যারা জীবন দিয়েছেন, যারা অঙ্গ হারিয়েছেন, আল্লাহ তাদের কোরবানির বিনিময়ে দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।”
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ বিষয়ে বিশেষ বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের অগ্রভাগে জামায়াত ইসলাম অবস্থান করছে।
দারসুল কোরআন উপস্থাপন করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুমসহ আরও অনেকে। তাদের বক্তব্যে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি, আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
অধিবেশনের সার্বিক পরিবেশ প্রমাণ করে, জামায়াত ইসলামী আগামীর রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত। ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে তারা শুধু শিক্ষাঙ্গনের সীমাবদ্ধ সাফল্য হিসেবে দেখছে না, বরং জাতীয় নির্বাচনের অঙ্গনেও এর বড়সড় প্রভাব পড়বে বলে আত্মবিশ্বাসী। এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে জামায়াত আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।