ক্ষেতলালে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ক্ষেতলালে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার..

Rashed Islam avatar   
Rashed Islam
ক্ষেতলালে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার..
ক্ষেতলালে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার..
ছবি: সংগৃহীত
ঘাতকের স্ত্রীসহ দুই নারী আটক, পলাতক মূল আসামি।

 

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া আক্তার (১০)। নিখোঁজের তিন দিন পর শুক্রবার রাতে প্রতিবেশীর গোয়ালঘর থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হতেই শোক আর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পুরো গ্রাম।

নিহত তাসনিয়া বড়তারা ইউনিয়নের শালবন গ্রামের এরশাদ আলীর মেয়ে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়রা প্রতিবেশী একরামুলের গোয়ালঘর থেকে একটি বড় বস্তা দেখতে পান। সন্দেহ হলে সেটি খোলা হয়, আর সেখানেই বেরিয়ে আসে তাসনিয়ার লাশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় প্রধান আসামি একরামুল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তবে তার স্ত্রীসহ আরও দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে হত্যার পর বস্তায় ভরে গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।” তিনি আরও জানান, প্রধান আসামিকে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামবাসী হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, শিশু হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকড় উপড়ে না ফেললে সমাজে ভয়ঙ্কর বার্তা যাবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা), ২০১ (প্রমাণ গোপন) ও শিশু আইনের প্রযোজ্য ধারা যোগ করে মামলা হতে পারে। অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

অপরদিকে শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে। পরিবার ও সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ ধরনের অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও শিশুদের সুরক্ষা ও আইন প্রয়োগে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। অন্যথায় এমন অমানবিক হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

শালবন গ্রামে এখন কেবলই কান্না আর শোকের মাতম। স্কুলের সহপাঠী থেকে শুরু করে প্রতিবেশী—সবাই অবাক হয়ে বলছেন, “একটা নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে হত্যা করতে পারে কেমন মানুষ?”

 

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator