চব্বিশ পরবর্তী রাজনীতি এখন ইসলামের পক্ষে: চরমোনাই পীর | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চব্বিশ পরবর্তী রাজনীতি এখন ইসলামের পক্ষে: চরমোনাই পীর

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
চব্বিশ পরবর্তী রাজনীতি এখন ইসলামের পক্ষে: চরমোনাই পীর
চব্বিশ পরবর্তী রাজনীতি এখন ইসলামের পক্ষে: চরমোনাই পীর
ছবি: সংগৃহীত
Charmonai Pir Syed Rezaul Karim declared that after the August 5 uprising, politics in Bangladesh has shifted in favor of Islam. He warned that without legal assurance of the July Accord, people will ..

চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম। তিনি দাবি করেন, এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশ এখন ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং জনগণ অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসলামী মূল্যবোধের দিকে ঝুঁকছে।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাড্ডা ইউলুপ সংলগ্ন প্রধান সড়কে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সমাবেশে তিনি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং একই সঙ্গে সতর্ক করেন যে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে পড়বে।

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পার হলেও দেশের মানুষ এখনও মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। তিনি অভিযোগ করেন, যেসব রাজনৈতিক শক্তি এতদিন দেশ পরিচালনা করেছে তারা জনগণের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। স্বাধীনতার সময় মানুষের সামনে তিনটি মৌলিক স্লোগান ছিল– সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। অথচ এতগুলো বছর পরও সেসব স্লোগান বাস্তব রূপ পায়নি।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর জনগণ নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে যে, পুরনো শক্তি যদি আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে তবে দেশের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। সেই প্রেক্ষাপটেই মানুষ ইসলামী আন্দোলনের আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। তার দাবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতি-আদর্শ সকল শ্রেণির মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে—মা-বোন, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা প্রান্তিক জনগণ—সবাই এর মধ্যে সমান মর্যাদা ও ন্যায় পাবে।

রেজাউল করিম জোর দিয়ে বলেন, আল্লাহর নির্ধারিত নীতি-আদর্শের বাইরে মানবতার জন্য শান্তি বা মুক্তি সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলনের আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য নয়, বরং নৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্যও। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিককে তাদের অধিকার বুঝতে হবে এবং সেসব অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

গণসমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যারা এতদিন দেশের ক্ষমতা দখল করে রেখেছে তারা জনগণের আশাভরসা পূরণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। তাই পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ পরিবর্তনের পথে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে ইসলামের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি এ সময় নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট করে বলেন, দেশের জনগণ আর কোনো প্রহসনমূলক ভোট গ্রহণ মেনে নেবে না। জুলাই সনদকে আইনি বৈধতা দিয়ে নির্বাচন আয়োজন না করলে, জনগণ সেই নির্বাচনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

চরমোনাই পীরের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, যেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জনগণের কাছে নিজেদের নীতি-আদর্শ তুলে ধরে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে। তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন, নৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া দেশে কোনো প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলন তাই কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং নৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সমাবেশ শেষে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সর্বশক্তি দিয়ে জনগণের ন্যায় ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আন্দোলন চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায় ও নৈতিকতার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator