রাজধানীর বাড্ডায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা এক বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশটি শুরু হয় বিকেল আড়াইটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এতে সংগঠনটি রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করে।
প্রথম থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল আসতে শুরু করে বাড্ডার দিকে। ঢাকা শহর ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকেও দলীয় নেতা-কর্মীরা যোগ দেন। বিক্ষোভ মিছিলগুলোতে স্লোগান ধ্বনিত হয়—“রাষ্ট্র সংস্কার চাই”, “গণহত্যার বিচার চাই”, “জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন চাই”, “ভারতের দোসরদের বিচার চাই।”
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি পীর সাহেব চরমোনাই নামেও পরিচিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব এবং ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের অসংখ্য নেতা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, দেশের জনগণ আজ পরিবর্তন চায়। রাজনৈতিক দলগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার চলমান থাকা অবস্থায়ও তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা আইনের পরিপন্থী। বক্তারা এ সময় এসব দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন।
এছাড়া তারা ভারতের প্রভাব ও ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের বিচারের দাবি জানান। বক্তারা মনে করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে হলে এই শক্তিগুলোকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
গণসমাবেশে আরও বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই জুলাই সনদের ভিত্তিতে হতে হবে। একইসঙ্গে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রতিফলিত করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বক্তৃতার ফাঁকে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান ও শ্লোগানে মুখরিত করেন সমাবেশ প্রাঙ্গণ। সাধারণ মানুষও আশপাশ থেকে এসে সমাবেশের অংশ নেন।
বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, তাদের দাবিগুলো অবহেলা করলে সরকারকে কঠোর আন্দোলনের মুখে পড়তে হবে। রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, প্রভাবশালী শক্তির বিচারের মতো দাবিগুলো তারা জাতীয় স্বার্থে জরুরি বলে উল্লেখ করেন।
অবশেষে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে হলে রাজনীতিকে সৎ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে। তারা অঙ্গীকার করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই এই লক্ষ্য পূরণে তারা অবিচল থাকবেন।