হঠাৎ মোটা হয়ে যাওয়া নিয়ে সমালোচনা আর ট্রলের মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী সানাই মাহবুব। অবশেষে ফেসবুক পোস্টে জানালেন—হাইপোথাইরয়েডিজম নামের জটিল রোগেই তিনি ভুগছেন, ব্রেস্ট সার্জারির কারণে নয়।
হেডলাইন (SEO অপ্টিমাইজড বাংলায়)
হরমোনজনিত অসুখের শিকার সানাই মাহবুব, মোটা হওয়ার আসল কারণ জানালেন নিজেই
শর্ট ডিসক্রিপশন (বাংলা)
হঠাৎ মোটা হয়ে যাওয়া নিয়ে সমালোচনা আর ট্রলের মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী সানাই মাহবুব। অবশেষে ফেসবুক পোস্টে জানালেন—হাইপোথাইরয়েডিজম নামের জটিল রোগেই তিনি ভুগছেন, ব্রেস্ট সার্জারির কারণে নয়।
Short Description (English)
Actress Sanai Mahbub, who faced heavy trolling for sudden weight gain, revealed the real reason herself—she is battling hypothyroidism, not suffering from any breast surgery side effects.
সম্পূর্ণ নিউজ রিপোর্ট
বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের আলোচিত নাম সানাই মাহবুব আবারও আলোচনায়। তবে এবারের কারণ কোনো নতুন সিনেমা বা মিউজিক ভিডিও নয়, বরং তার শারীরিক পরিবর্তন। হঠাৎ করেই তাকে আদালত প্রাঙ্গণে দেখা গেলে, সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দেখা যায়, আগের তুলনায় তিনি অনেক বেশি মুটিয়ে গেছেন। বিশেষ করে শরীরের কিছু অঙ্গের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় ট্রল ও সমালোচনা।
নেটিজেনদের অনেকেই তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করতে থাকেন। কেউ দাবি করেন, তার অতিরিক্ত ওজন কিংবা বুকের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আসলে পূর্বের ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট সার্জারির ফল। আবার কেউ এটিকে ‘গজব’ বলে তীর্যক মন্তব্য ছুড়ে দেন। কয়েক বছর আগেই কৃত্রিম উপায়ে স্তনের আকার বাড়ানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। তখনও অনেকেই সতর্ক করেছিলেন, এ ধরনের সার্জারির দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হতে পারে।
তবে এবার আর চুপ থাকেননি সানাই মাহবুব। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, তার শরীরের এই পরিবর্তনের কারণ কোনো প্লাস্টিক সার্জারি নয়। বরং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন হাইপোথাইরয়েডিজম নামের এক হরমোনজনিত জটিল রোগে। এ রোগের কারণে শরীরে অস্বাভাবিকভাবে ওজন বেড়ে যায় এবং নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
তার পোস্টে সানাই লেখেন—
“আমার হাইপোথাইরয়েডের কারণে এরকম হয়েছে, কোনো ব্রেস্ট সার্জারী থেকে নয়। নিচে প্রমাণসহ প্রেসক্রিপশন দিয়েছি। আমি অনেক দিন ধরে এই রোগের সঙ্গে লড়াই করছি। আমার মতো অনেক মেয়েই এই রোগে ভুগছেন। তারা জানেন, হাইপোথাইরয়েডিজম কতটা ভয়ংকর। আমি প্রতিদিন এই অসুখের সঙ্গে যুদ্ধ করছি।”
পোস্টের সঙ্গে তিনি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনও যুক্ত করেন। তিনি জানান, এটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয় একটি নথি হলেও তিনি বাধ্য হয়েছেন তা প্রকাশ করতে—শুধু মাত্র তাদের জন্য, যারা তাকে নিয়ে অযথা কটাক্ষ করছেন এবং মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন।
তিনি আরও সতর্ক করে লিখেছেন—
“যারা এখনো আমাকে নিয়ে ইউটিউব কনটেন্ট বা ফেসবুক পোস্ট বানাচ্ছেন, তাদের বলছি—আমি প্রমাণ দিয়েছি যে আমি হরমোনাল ডিসঅর্ডারে ভুগছি। এরপরও যদি কেউ বডি শেমিং চালিয়ে যান, তাহলে আমি সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় মামলা করতে বাধ্য হবো। আমি কাউকে হেয় করার জন্য নয়, বরং নিজের সম্মান রক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নিতে চাই।”
সামাজিক মাধ্যমে তার এই স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। অনেকে সমালোচনা থামিয়ে তাকে মানসিক শক্তি জোগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নেটিজেনদের একাংশ দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, “যা বুঝি না, তা নিয়ে ট্রল করা উচিত নয়। একজনের ব্যক্তিগত জীবনের কষ্টকে হাসির খোরাক বানানো অমানবিক।”
উল্লেখ্য, সানাই মাহবুব মূলত মডেলিংয়ের মাধ্যমে মিডিয়ায় প্রবেশ করেন। এরপর চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করলেও ‘ময়নার ইতিকথা’ ও ‘সুপ্ত আগুন: দ্য হিডেন ফায়ার’—নামক দুটি সিনেমা মুক্তির মুখ দেখেনি। তবে কয়েকটি আইটেম গান ও মিউজিক ভিডিওতে কাজ করে তিনি আলোচনায় আসেন। হঠাৎ করেই তিনি মিডিয়া থেকে দূরে সরে গিয়ে সংসারী জীবনে মন দেন। তবে ব্যক্তিজীবনেও ভাঙনের ঝড় বইছে। সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে নানা সময়ে আলোচনায় এসেছেন সানাই মাহবুব।
কিন্তু সাম্প্রতিক এই বিতর্ক প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশে এখনো অনেকেই কারও শারীরিক গঠন বা অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে বিদ্রূপকে বিনোদন হিসেবে দেখেন। অথচ একজন শিল্পীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতাই হওয়া উচিত সমাজের দায়িত্ব।