বকশীগঞ্জে হত্যা মামলার আসামীদের বাড়িঘর ভাংচুর-লুটপাট থামছেই না.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বকশীগঞ্জে হত্যা মামলার আসামীদের বাড়িঘর ভাংচুর-লুটপাট থামছেই না..

Ratan Entiser avatar   
Ratan Entiser
বকশীগঞ্জে হত্যা মামলার আসামীদের বাড়িঘর ভাংচুর-লুটপাট থামছেই না..
বকশীগঞ্জে হত্যা মামলার আসামীদের বাড়িঘর ভাংচুর-লুটপাট থামছেই না..
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের বকশীগঞ্জে জমি নিয়ে সংঘর্ষের পর দুলাল শেখ হত্যা মামলার আসামীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।..

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ভাটি কলকিহারা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার পরিণতিতে দুলাল শেখ নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকে মামলা দায়ের করা হলেও আসামীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ আগস্ট সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর দুলাল শেখকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত দুলাল শেখের ছেলে সোহাগ মিয়া এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেন, যেখানে ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকে বাদী পক্ষের লোকজন দফায় দফায় আসামীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে। এ ঘটনায় আসামী পক্ষের প্রায় ২০-২৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ির আসবাবপত্র, গবাদি পশু, ফ্রিজ, টিভি, নলকূপ, বিদ্যুতের তার এবং মিটার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফুলেরা বেগম বলেন, 'বাড়িতে থাকা সকল জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। ভয়ে থাকি কখন জানি এসে হামলা ও মারধোর করে।' পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের পর থেকে ওই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এবং হামলা-ভাঙচুর রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা সটকে পড়ছে।

মেরুরচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, 'সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আইন মোতাবেক শাস্তি হবে। তবে এভাবে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট অত্যন্ত দুঃখজনক।'

বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, 'ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পেয়েই আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এই ঘটনার প্রভাব গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও নিরাপত্তার অভাবে স্কুলে যেতে পারছে না। এ ধরনের পরিস্থিতি নিরসনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে গ্রামবাসী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।

এই সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে ভাটি কলকিহারা গ্রামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এলাকাবাসী দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছে।

ন

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator