নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী সেলিম জাহাঙ্গীরকে (৪৫) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে ময়মনসিংহ সদর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সেলিম জাহাঙ্গীর পূর্বধলা সরকারি কলেজের দর্শণ বিভাগের প্রভাষক এবং উপজেলার সদর ইউনিয়নের লাউজানা গ্রামের বজলুল করিম ওরফে তারা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিম জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে সাবেক এমপি বেলালের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন এবং তার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, সেলিম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পূর্বধলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়, যা তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
গ্রেপ্তারের পর সেলিম জাহাঙ্গীরকে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালত তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেয়। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেলিম জাহাঙ্গীরের গ্রেপ্তার নেত্রকোনা অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধাক্কা। সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ সহচরের বিরুদ্ধে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ এবং তার গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু মানুষ এই গ্রেপ্তারকে ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কিছু মানুষ মনে করছেন এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।
সেলিম জাহাঙ্গীরের গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার অগ্রগতি নেত্রকোনার রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন অনেকেই।