ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে জাতীয় নিরাপত্তা নাকি রাজনৈতিক স্বার্থ?.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে জাতীয় নিরাপত্তা নাকি রাজনৈতিক স্বার্থ?..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে জাতীয় নিরাপত্তা নাকি রাজনৈতিক স্বার্থ?..
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে জাতীয় নিরাপত্তা নাকি রাজনৈতিক স্বার্থ?..
ছবি: সংগৃহীত
পেন্টাগনের সুপারিশ এবং সামরিক কর্মকর্তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে মার্কিন স্পেস কমান্ডের সদর দপ্তর কলোরাডো থেকে অ্যালাবামায় স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতি..

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান—ইউএস স্পেস কমান্ডের সদর দপ্তর স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনীতি। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২রা সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন, তিনি স্পেস কমান্ডের সদর দপ্তর কলোরাডোর কলোরাডো স্প্রিংস থেকে সরিয়ে অ্যালাবামার হান্টসভিলে নিয়ে যাবেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং কলোরাডোর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে সামরিক যৌক্তিকতার চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, ২০২১ সালে মার্কিন বিমান বাহিনী একাধিক অঙ্গরাজ্য পর্যালোচনার পর হান্টসভিলকেই সদর দপ্তরের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেছিল এবং বাইডেন প্রশাসন ‘অন্যায্যভাবে’ সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। হান্টসভিলের পক্ষে সমর্থকরা বলছেন, এই শহরটি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে; এখানে নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টার এবং সেনাবাহিনীর স্পেস অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ড অবস্থিত। পেন্টাগনের একটি প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, হান্টসভিলে সদর দপ্তর স্থানান্তর করা হলে কম খরচের কারণে প্রায় ৪২৬ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।

তবে, এই সিদ্ধান্তের পেছনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হান্টসভিল যে রাজ্যে অবস্থিত, সেই অ্যালাবামা মূলত একটি রিপাবলিকান অধ্যুষিত এবং ট্রাম্পের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, অ্যালাবামায় তার বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই, সমালোচকরা মনে করছেন, এটি মূলত রাজনৈতিক প্রতিদান। এর আগে বাইডেন প্রশাসন যখন সদর দপ্তরটি কলোরাডোতেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন অ্যালাবামার সিনেটর টমি টিউবারভিল পেন্টাগনের গর্ভপাত নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, যা এই বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছিল।

এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় সমালোচনা আসছে নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং কলোরাডোর আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে। তাদের মতে, স্পেস কমান্ডের সদর দপ্তর স্থানান্তর করতে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় নিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বছরের পর বছর পিছিয়ে দেবে। এই দীর্ঘসূত্রিতা چین, রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে বড় ধরনের সুবিধা করে দেবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, কলোরাডোতে ইতোমধ্যেই ইউএস এয়ার ফোর্স একাডেমি এবং তিনটি স্পেস ফোর্স ঘাঁটির মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিই রয়েছে, যা স্থানান্তরের ফলে নষ্ট হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই একতরফা সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যকার এক তীব্র দ্বন্দ্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধুমাত্র বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অপচয়ই হবে না, বরং এটি মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকেও দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা, যা দেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি করেছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator