আগামী শনিবার ৩০ আগস্ট নেত্রকোনা জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ সম্মেলনকে ঘিরে পুরো জেলায় এখন টানটান উত্তেজনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান জেলা আহ্বায়ক ডা. আনোয়ারুল হক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক।
ডা. আনোয়ারুল হক দীর্ঘদিন ধরে জেলার আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। মাঠপর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা প্রবল। অনেকেই মনে করেন তার অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা নতুন কমিটিকে শক্তিশালী করতে পারে। এতে তার পক্ষে প্রবীণ নেতাকর্মীদের সমর্থন রয়েছে।
অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক তরুণ ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তার গতিশীল নেতৃত্ব ও মাঠের কর্মীদের কাছে সহজে পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা তাকে এগিয়ে রাখছে। তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব ডা. রফিকুল ইসলাম হিলালী, যুগ্ম আহ্বায়ক এস.এম. মনিরুজ্জামান দুদু এবং সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি।
ডা. রফিকুল ইসলাম হিলালী দীর্ঘদিন ধরে জেলা কমিটি পরিচালনা করছেন। তার অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক পরিপক্কতা প্রবীণ নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে।
এস.এম. মনিরুজ্জামান দুদু তরুণ প্রজন্ম ও মাঠের কর্মীদের কাছে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি উপস্থিত থাকার কারণে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি যুব সমাজের কাছে জনপ্রিয়। তার সংগঠনিক দক্ষতা ও তরুণ কর্মীদের সমর্থন তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রাখছে।
মোট ১,৫১৫ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। এই নির্বাচনকে ঘিরে নেত্রকোনার রাজনীতির মাঠে চলছে জোর প্রচারণা, গণসংযোগ আর নেতাকর্মীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রতিটি পদের জন্য প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করছেন।
এই সম্মেলন নেত্রকোনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নতুন নেতৃত্ব আসার পর জেলা বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।