জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক মনোনীত জেনারেল সেক্রেটারি (জি.এস.) পদপ্রার্থী সত্যজিৎ দাস সম্প্রতি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমালোচনা করেছেন, যারা তার মতে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলেই বেশি মনোযোগী।
সত্যজিৎ দাস বলেন, 'আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বৃহত্তর পরিসরে কাজ করতে হলে রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকা জরুরি। কারণ, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশিরভাগ সময় ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য আসে, তাদের লক্ষ্য পূরণ হলে চলে যায়—কিন্তু শিক্ষার্থীদের সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না।'
তিনি উল্লেখ করেন যে, একজন রাজনৈতিক নেতা সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে, অধিকার আদায়ে ও সেবায় নিয়োজিত থাকে। 'তাই আমি আমার সহপাঠী ভাই-বোনদের বলব—কোনো মৌসুমি স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিয়ে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের সুযোগ দেবেন না। কারণ, বসন্তের কোকিলের মতো তারা এক বসন্তে আসে, গান গেয়ে আবার হারিয়ে যায়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতা সর্বদা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকে, তাদের উপকারের জন্য কাজ করে যায়।'
সত্যজিৎ দাস তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে সংখ্যালঘু ও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জোরালোভাবে বলেছেন, 'আমার প্রথম অঙ্গীকার হবে—সংখ্যালঘু ও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো বৈষম্যের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে দাঁড়ানো।'
শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের জন্য তিনি বেশ কয়েকটি উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সফল প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজন। এছাড়াও, দেশভিত্তিক হায়ার স্টাডি কাউন্সেলিং সেল (যেমন জার্মানি, আমেরিকা, কানাডা) গঠন করা হবে।
ভাষা দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফ্রি ফ্রেঞ্চ, জার্মান, জাপানিজ ও IELTS প্রস্তুতিমূলক কোর্স চালু করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
সত্যজিৎ দাসের এই প্রতিশ্রুতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং তারা তার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা করছেন।
তবে, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তার সক্ষমতা ও উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। তবে সত্যজিৎ দাসের মতে, তার নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করেছে।
ছাত্র রাজনীতির এই নির্বাচনী প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সকলের দৃষ্টি এখন নির্বাচনের ফলাফলের দিকে।