খুলনার ডুমুরিয়ায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘ*টনায় গৃহবধূর মৃ*ত্যু: চালকের মুভিটা প্রশ্নবিদ্ধ!.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

খুলনার ডুমুরিয়ায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘ*টনায় গৃহবধূর মৃ*ত্যু: চালকের মুভিটা প্রশ্নবিদ্ধ!..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনার ডুমুরিয়ায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘ*টনায় গৃহবধূর মৃ*ত্যু: চালকের মুভিটা প্রশ্নবিদ্ধ!..
খুলনার ডুমুরিয়ায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘ*টনায় গৃহবধূর মৃ*ত্যু: চালকের মুভিটা প্রশ্নবিদ্ধ!..
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার ডুমুরিয়ায় একটি অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় গৃহবধূর মৃত্যু ও তিনজন আহত হয়েছেন। চালক পালিয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া এলাকায় একটি মর্মান্তিক অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় তাসলিমা সুলতানা ময়না (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৩ আগষ্ট '২৫) সকালে সাতক্ষীরা-খুলনা সড়কের ডুমুরিয়া নতুন রাস্তার পাশে মোল্লা বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী আরিফুল ইসলামসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। চালক নূর ইসলাম বাবু পালিয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তাসলিমা সুলতানা ময়নাকে নিয়ে তার স্বামী আরিফুল ইসলাম এবং তার ভাইয়ের পিঠের টিউমার অস্ত্রোপচারের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজে নেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। তারা একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছিলেন, যা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নলতা ডায়াবেটিক হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অ্যাম্বুলেন্সটি চালাচ্ছিল নূর ইসলাম বাবু, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন দালাল।

ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে ডুমুরিয়া নতুন রাস্তার মোড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি লাইট পোষ্টে ধাক্কা খায় এবং পরবর্তীতে পাশের পানিভর্তি খাতে পড়ে যায়। এতে তাসলিমা সুলতানা ময়না ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে ডুমুরিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নলতা ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রাক্তন চালক খলিলুর রহমান জানান, অ্যাম্বুলেন্সটির ফিটনেস ছিল না এবং তিনি মাসিক বেতন হিসেবে ১০ হাজার টাকা পেতেন। তবে বেতনের বকেয়া ৩২ হাজার টাকা না দেওয়ায় তাকে চাকরি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নূর ইসলাম বাবুকে দিয়ে অযোগ্যভাবে অ্যাম্বুলেন্স চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালের মালিক মিলন হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি আহতদের চিকিৎসা নিয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স চালকের লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি।

চালক ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দাবি করেছেন যে, এমন দুর্ঘটনা এড়াতে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দোষীদের বিচার দাবি করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনা সমাজে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator