এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ঘোষণা দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে না। নতুন সংস্কার বা সংবিধান না আসা পর্যন্ত ভোটের আয়োজন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—নতুন সংস্কার ও নতুন সংবিধান ছাড়া এই নির্বাচন কোনোভাবেই হবে না। মঙ্গলবার রাজধানীতে এনসিপির যুব সংগঠন যুবশক্তি-র কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দৃঢ়ভাবে এই ঘোষণা দেন।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “ঘোষণা দিচ্ছি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। কারণ, নতুন সংস্কার বা নতুন সংবিধান কিছুই আমরা পাইনি। আমার যেই ভাই মারা গেছে, তাকে ফেরত দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে।
শুধু তাই নয়, তিনি ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স)-এর সংস্কারের দাবিও জানান। তার ভাষায়, “ডিজিএফআই যদি রাখতেই হয় তাহলে সংস্কার করে রাখতে হবে। আয়নাঘর ভেঙে দিয়েছি, এবার ডিজিএফআইয়ের হেডকোয়ার্টার ভেঙে দিব।
অন্তবর্তী সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনও এ সময়সীমা ধরে সব প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিএনপিসহ কয়েকটি দল সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, জামায়াতে ইসলামি জানিয়েছে—ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে তাদের আপত্তি নেই, তবে সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতি চালু না হলে তারা ভোটে অংশ নেবে না।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “ভবিষ্যতে অনেক সংকট আসছে, সবাই সতর্ক থাকুন। জাতীয় পার্টি কাউন্সিল করে পেছনের দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছে। এদের রাজনীতি করতে দেওয়া যাবে না। বিদেশি দূতাবাসগুলো উত্তাপ শুরু করেছে। কিছু করলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে করতে হবে।
এ সময় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, “এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া যাবে না। শুধু এনসিপি বা যুবশক্তি নয়, সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “হাবিবুর রহমান, ফজলুর রহমানরা এখনও আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলে। এদের বিরুদ্ধে বিএনপি ব্যবস্থা নেবে বলে বিশ্বাস করি।
আরেক মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন, গত এক বছরের সরকারের কর্মকাণ্ডের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তার অভিযোগ, একটি বিশেষ দল দেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, “একটি দলের নেতারা নিউজ লিখে দেয়, মিডিয়া সেটা প্রকাশ করে। আমাদের আটকে রেখে চ্যানেল ওয়ান, ডিবিসিকে ফোন দিয়ে বলা হতো—হেডলাইন পরিবর্তন করেন, ব্রেকিং পরিবর্তন করেন। এখনো একই অবস্থা চলছে।”