বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার সরাসরি আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (PR System) চালুর দাবি জানাবে। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ তাহের বলেন, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি দেশের জন্য উপযোগী নয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কৌশলে আসছে বড় পরিবর্তন। বহুদিন ধরেই নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে কথা বললেও এবার সরাসরি আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। তাদের দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংখ্যানুপাতিক (Proportional Representation - PR) নির্বাচনী পদ্ধতির বাস্তবায়ন।
দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং জনগণের প্রকৃত রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ। তাই দলটি মনে করে, PR পদ্ধতি একটি সময়োপযোগী এবং কার্যকর সমাধান হতে পারে। ৬ আগস্ট বুধবার, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
তাহের বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে বলে আসছি যে, দেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা দরকার। আমাদের দাবি হচ্ছে — সংখ্যানুপাতিক ভিত্তিক ভোট পদ্ধতি চালু হোক। এতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রকৃত ভোট অনুপাতে আসন পাবে, যা জনগণের রায়ের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে যে নির্বাচন পদ্ধতি চালু রয়েছে তা প্রায় ৫৪ বছর আগের। সেই সময়কার সামাজিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন আর বর্তমান বাংলাদেশের সঙ্গে মানানসই নয়। রাতের অন্ধকারে ভোট, কেন্দ্র দখল ও প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ প্রমাণ করে দিয়েছে, এই পদ্ধতি এখন বাতিল করার সময় এসেছে।”
একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা শুধু দাবি জানিয়েই বসে থাকবো না, বরং এর জন্য সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামবো। আমাদের দল ইতোমধ্যে সারাদেশে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে কী হবে তা সময় বলবে, তবে আপাতত আমরা PR পদ্ধতির দাবিকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে মাঠে থাকবো।”
প্রসংগত, PR (Proportional Representation) হলো এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা যেখানে একটি দলের মোট ভোটের অনুপাতে তাদের সংসদীয় আসন বরাদ্দ হয়। এটি অনেক দেশে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ক্ষুদ্র দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে থাকে। জামায়াত মনে করে, এই ব্যবস্থায় ভোটের অপচয় কমবে এবং জনগণের বাস্তব মতামতের প্রতিফলন ঘটবে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এই পদ্ধতি চালু না হলেও, এটি নিয়ে আলোচনা বহুদিন ধরেই রয়েছে। তবে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইতিবাচক অবস্থান নেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত ইসলামী যে সরাসরি আন্দোলনের পথে যাচ্ছে — তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিচ্ছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, জামায়াতের এই দাবি ও আন্দোলন আদৌ কতটা জনসমর্থন পাবে, এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। তবে স্পষ্টতই বলা যায়, বাংলাদেশের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এবং আলোচনার দরজা খুলে গেল।