অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ! আল-জাজিরাসহ বিশ্বগনমাধ্যেমে উঠে এসেছে এমন খবর!.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ! আল-জাজিরাসহ বিশ্বগনমাধ্যেমে উঠে এসেছে এমন খবর!..

Shahin Bhuiyan avatar   
Shahin Bhuiyan
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ! আল-জাজিরাসহ বিশ্বগনমাধ্যেমে উঠে এসেছে এমন খবর!..
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ! আল-জাজিরাসহ বিশ্বগনমাধ্যেমে উঠে এসেছে এমন খবর!..
ছবি: সংগৃহীত
ডঃ ইউনুস সরকারকে গণমাধ্যে ব্যর্থরার বিশ্লেষণ!

বিশ্ব গণমাধ্যম, বিশেষ করে আল জাজিরা সহ অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইন্টারিম (caretaker) সরকার বা অস্থায়ী সরকারের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যর্থ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। এ ব্যর্থতার কারণ ও বিশ্লেষণ নিচে বাংলায় সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো:

✅ ১. ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সারমর্ম

আল জাজিরা আজ (৫ অগাস্ট ২০২৫) প্রকাশিত নিবন্ধে উল্লেখ করেছে যে, *“প্রতিবাদকারীরা ‘বাস্তব পরিবর্তন’ চেয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষ এবং প্রতিশ্রুতির ব্যর্থতায় সরকার ভেঙে পড়ছে”*  ।

অন্যান্য বিশ্লেষণ যেমন Atlantic Council, CFR বলছে যে সরকারের অরাজক পরিস্থিতি, ধর্মান্ধ শক্তির উত্থান, সংখ্যালঘু ও মানুষের দমন, রাজনৈতিক ফাটল এবং আইনি কাঠামোর অভাব ক্ষমতাহীন করে তুলেছে  ।

🧭 ২. সংবিধানিক ও বৈধতা সংকট

১৫তম সংশোধনী বাতিল করে caretaker সরকারের বিধান হঠানো হয়েছে—তবে সংবিধানে নতুন কোন ধারায় অস্থায়ী সরকারের কোনো বিধান নেই। ফলে সেটি অবৈধ বা “unconstitutional” হিসেবেই রক্ষকদের ধারণা হচ্ছে  ।

ইউনিয়ন রূপে মুজিব, জিয়, এরশাদের মতো প্রক্রিয়া ছাড়া, এই সরকারকে বৈধতা দিতে নতুন সংশোধনী প্রয়োজন, যা হয়নি।

💥 ৩. আইন–শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার অবনতি

মাগুরা ও অন্যান্য অঞ্চলে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে গ্রুপাসত্য সহ্য করেছে রাষ্ট্র—যার জন্য ইন্টারিম সরকারকে নির্দোষ ভাবছে না জনগণ  ।

Mob justice (গণদমন), সংখ্যালঘু নির্যাতন, ও মুঠোফোনে তুলে ধারণ ভিডিও ছড়িয়ে পড়া—সবই বেড়েছে  ।

📰 ৪. সাংবাদিক ও মিডিয়ার উপর ক্লেশ

২০২৪–২৫ সালের মধ্যে ৬৪০ জন সাংবাদিককে লক্ষ করে আট্যাচমেন্ট, মামলা, হেনস্থা, আরেকর কয়েক‘শ’ জন জৈবিকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রেস আত্মসমর্পণ, মিডিয়া অফিস ভাঙচুর থেকে শুরু করে কার্যালয় পরিবর্তন পর্যন্ত হয়েছে  ।

🧱 ৫. রাজনৈতিক বিভাজন ও দলীয় নিষিদ্ধতা

ইন্টারিম সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ব্যান করেছে যা নির্বাচনী অংশগ্রহণ পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে। এতে গণতান্ত্রিক আদর্শের উর্ধ্বে পক্ষপাতিত্ব সন্দেহ বেড়েছে  ।

নতুন "ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি" ও জামায়াত পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যেগুলো প্রাক্তন সরকারে নিষিদ্ধ ছিল  ।

🧾 ৬. প্রতিশ্রুত পরিবর্তনের স্থবিরতা

১১টি সংস্কার কমিশন তৈরি করা হলেও রাজনৈতিক দলগুলো কোনো ঐক্যমত পায়নি, ভোটের সময়সূচী নিয়ে বির্তক চলছে—কিন্তু বিলম্ব বাধাগ্রস্ত হচ্ছে  ।

ইউ এন এইচ আর সি বা Rights Watch সহ বিভিন্ন সংস্থা জানাচ্ছে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা কিছুটা বেড়েছে কিন্তু দীর্ঘ নির্যাতন, অধিকার হরণ, বিচারহীনতা এখনো ঠেকানো সম্ভব হয়নি  ।

⚖️ ৭. নিয়মনীতি ও শাসনতন্ত্র সম্পর্কিত বিতর্ক

উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী caretaker সরকার পুনঃস্থাপন করা হয়েছে—but রক্ষণশীল সংবিধান অনুযায়ী তা বৈধ নয়, বিষয়টি এখন সংবিধান ও আদালতের দৃষ্টিতে জটিল অবস্থানে রয়েছে  ।

‘রিসেট বাটন’ মন্তব্য ও গ্লোবাল ভাষণে শিরেশন বোঝায় যে, ইতিহাস ‘রিসেট’ করার অভিযোগও উঠেছে–যা সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাড়িয়েছে  ।

🧾 এক বছরে জনগণের কী অর্জন!

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মতে, এই ইন্টারিম সরকার

বৈধতা সংকটে জর্জরিত,

আইন ও শৃঙ্খলায় ব্যর্থ,

গণতান্ত্রিক সংস্কার–প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা,

এবং রাজনৈতিক ও মিডিয়ায় পক্ষপাতিত্ব বা চাপ ফ্যালিয়ে দিয়েছে।

সারমর্মে, প্রত্যাশিত ‘পরিবর্তন’ বা ‘ন্যায়বিচার’ এখনও সাদরে ফোটেনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম—বিশেষ করে আল জাজিরা—এর কাছ থেকে এই সমালোচনা এসেছে যে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে জনজীবন, গণতন্ত্র ও সাম্য পুনরুদ্ধারে।

©দৈনিক গণবাংলা

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator