ভোলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ | আই নিউজ বিডি

ভোলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ

Md Sohag avatar   
Md Sohag
ভোলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ
ভোলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।..

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নৃত্য গোপাল দাস নামক এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির ছাত্র তামিমকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, চুল বড় রাখার কারণে তামিমকে শাস্তি হিসেবে মারধর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নৃত্য গোপাল দাস দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন এবং তিনি কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পরিচিত। তামিমের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, শুধুমাত্র চুলের দৈর্ঘ্যের কারণে এ ধরনের শাস্তি দেওয়া অযৌক্তিক এবং শিক্ষকের আচরণ অমানবিক।

তামিমের মা জানান, 'আমার ছেলে চুল একটু বড় রেখেছিল, কিন্তু এজন্য এমন শাস্তি পাওয়া ঠিক নয়। আমরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করছি।' বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিভিন্ন সময়ে সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা বললেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনা ঘটেই চলেছে।

আইনের দৃষ্টিতে, কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়া অপরাধ। তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

সমাজ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে শারীরিক নির্যাতন পরিহার করা জরুরি। তারা আরও বলেন, শিক্ষকদের মানসিক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কর্মশালা আয়োজন করা উচিত।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

এই ঘটনার ফলে ভোলা জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Комментариев нет


News Card Generator