জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুর পাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাঙ্গালপাড়া দশানী নদীতে তীব্র ভাঙনের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই ভাঙনের ফলে ইতিমধ্যে ফসলি জমি, ফলের বাগান, রাস্তাঘাট ও শত শত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে এলাকার রাস্তা ও সেতুসহ ছোট ছোট কালভার্টও ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে বাঙ্গালপাড়া এলাকার ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে রাতদিন সমান তালে বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন কর্মকর্তা মোঃ নকিবুজ্জামান খান বলেন, "বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নদীভাঙনের স্থানগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাসুদ রানা জানান, "নদীগর্ভে বিলীনের পর শুধু পুরো বকশীগঞ্জ উপজেলার চারপাশে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে শত শত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।"
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। স্থানীয় জনগণ সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
বকশীগঞ্জের নদীপাড়ের মানুষদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। গ্রামের বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এতে করে শুধু বর্তমান সমস্যার সমাধান নয়, ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।
এমতাবস্থায়, স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব। প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা যায়।